যশোরের অভয়নগরে ভবানীপুর মরিচা পশুহাট ইজারা নিয়ে বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগী উপজেলার বারান্দী পায়রাহাট গ্রামের মৃত আকাম আলী কাজীর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তি। কষ্টে অর্জিত টাকা দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের নিয়ম মেনে তিনি ওই পশুহাট ইজারা নিয়ে এখন দ্বারেদ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে ন্যায় বিচার পাওয়ার আসায়। সকল কাগজপত্র যাচাই করে জানা যায়, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আবু নওশাদ থাকা অবস্থায় গত ১৩/০২/২০২৪ ইং তারিখে ওই পশুহাট ইজারা দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। যে কারনে ওই পশুহাট ইজারা পেতে ভুক্তভোগী সিডিউল বাবদ ৬২০০ টাকা জমা করে সিডিউল ক্রয় করে, নিয়ম মোতাবেক টেন্ডারের মাধ্যমে পশুহাট ইজারা পান। যার কারণে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর গত ৩/৩/২০২৪ ইং তারিখে পে অর্ডারের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকা জমা করেন। পরবর্তীতে গত ৭/০৩/২০২৪ ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আবু নওশাদ স্বাক্ষরিত ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীরকে পশুহাট ইজারা বাবদ বকেয়া সমুদয় টাকা পরিশোধ করার জন্য ১৮৩ নং স্বারকে একটি নোটিশ প্রদান করেন। যে কারণে ভুক্তভোগী উপায় না পেয়ে জমি জমা বিক্রি করে ইজারার বকেয়া ৩৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫শত টাকা নোটিশে উল্লেখিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক নওয়াপাড়া শাখার চলতি হিসাব নং ৪২৪ একাউন্টে জমা করেন। কিন্তু ভুক্তভোগী উল্লেখিত পশুহাটে গিয়ে জানতে পারেন ভবানীপুর মরিচা পশুহাট ব্যক্তি মালিকানাধীন সরকারি পশুহাট নয়। যার জন্য ভুক্তভোগী গত ২০/০৩/২০২৪ ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ঘটনা উল্লেখ করে একটি লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু এযাবতকাল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীর ইজারা পাওয়া পশুহাট দখল বুঝিয়ে দেয়নি। বা ভুক্তভোগীর আবেদনের কোন সমাধান করেননি। ফলে ভুক্তভোগী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম পড়েছেন চরম বিপাকে সব হারিয়ে তিনি ন্যায় বিচার পেতে দ্বারেদ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এবিষয়ে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার সহায়সম্বল বিক্রি করে জীবীকা নির্বাহের জন্য ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫ শত টাকা দিয়ে ওই পশুহাট ইজারা নিয়েছিলাম। কিন্তু ইজারা শুধু কাগজ কলমে হয়েছে। বাস্তবে কিছুই পায়নি আমার ইজারা পাওয়া পশুহাটের বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বারস্থ হয়ে অনুনয় বিনয় করলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে কোন সমাধান দেয়নি। তিনি দাবি করেন হয় আমার ইজারা নেওয়া পশুহাট আমাকে দখল বুঝিয়ে দিক, না হলে আমার জমাকৃত সমুদয় টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করুক আমি অন্যকিছু কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আমি বাঁচতে পারি না হলে আমার মরা ছাড়া উপায় নেই। এবিষয়ে জানার জন্য অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়দেব চক্রবর্তীর ০১৩১৮২৫২৯৪৫ নং মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার অফিসে গিয়েও অফিসে না থাকায় স্বাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।