শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

অভয়নগরে প্রশাসনের কঠোর অভিযানের মধ্যেও থেমে নেই মাদক

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর):
আপডেট সময়: সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:০০ অপরাহ্ণ

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় যৌথ বাহিনীর কঠোর অভিযানের মধ্যে ও থামছেনা মাদক-জুয়া খেলা। ফলে অলিগলি, গ্রামের সকল স্থানে গড়ে উঠেছে ভয়ংকর মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট, পাশাপাশি রমরমা জুয়া খেলা, কেরাম বোর্ড খেলার আড়ালে নানামুখী অপরাধ। যে কারনে নেশাগ্রস্থ যুবসমাজ, যা দ্রুত বন্ধ না হলে ধ্বংস হয়ে যাবে যুবসমাজ। এ কারণে অভিভাবক মহল রয়েছে ভয়াবহ আতংকে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নওয়াপাড়া পৌর এলাকা থেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা হয়। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশল অবলম্বন করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের মাদক ব্যবসা। অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ছোট -বড়ো চা দোকানের আড়ালে চলে কেরাম বোর্ড খেলা, পাশাপাশি চলে ভয়াবহতা ভাবে জুয়া খেলা, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গভীর রাত পযন্ত কেরাম বোর্ড খেলার অজুহাতে ভয়ংকর মাদক সেবন বিক্রি চলে গভীর রাতে। ফলে মাদকসেবিদের গভীর রাত পযন্ত গ্রাম অঞ্চলে চা দোকান গুলোতে আড্ডাবাজি করতে দেখা যায়। অন্যদিকে নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় মাদক বিক্রি সেবনকারীরা কৌশলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা করছে। ফলে তারা  থেকে যাচ্ছে প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। অন্যদিকে নতুন করে গোড়ে উঠেছে নারী মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তারা বোরকা পরে এক জাগা থেকে অন্য জাগা মাদকসেবিদের কাছে পৌঁছে দিয়ে ওইসব নারী মাদক ব্যবসায়ীরা অভিনব পন্থা অবলম্বন করে চালিয়ে যাচ্ছে ভয়ংকর মরণব্যাধি মাদক ব্যবসা। ফলে দিন দিন হয়ে উঠছে উপজেলার সব গ্রামে ভয়ংকর মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ভালো মানুষ সন্মান ও জীবন বিপন্ন হওয়ার ভয়ে মুখ খুলতে পারেনা। এমনকি সাধারণ মানুষ সামাজিক ভাবে মাদক ব্যবসাসহ নানামুখী অপরাধের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সাহস করে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে পরে দেখা যায় সে মানুষ হাসপাতালের বেডে। ফলে কেউ সামাজিক ভাবে মাদকসহ জুয়া খেলার বিরুদ্ধে কথা বলেনা। অন্যদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিনে রাতে সমান তালে চলছে জুয়া খেলা ও গভীর রাত পযন্ত বিভিন্ন চা স্টলগুলোতে কেরামবোর্ড খেলা, আড্ডাবাজি, মাদক সেবন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলেও এদের বিরুদ্ধে কথা বলা বা প্রতিবাদ করার সাহস মানুষ হারিয়ে ফেলেছে। তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ওই সব মাদক বিক্রি সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড সিন্ডিকেটের সাথে রয়েছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার ক্ষমতা। যে কারণে পুলিশ প্রসাশনসহ সামাজিক ভাবে অপরাধ কর্মকান্ড বন্ধ করা সহজ হয়ে ওঠেনা। যদিও উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিভিন্ন অপরাধ দমনে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। কিন্তু গৃহীত সিদ্ধান্ত গুলো কাগজ কলমে রয়ে যায়। নানামুখী বাস্তবতার চাপে আইনশৃঙ্খলা সভায় সিদ্ধান্ত গুলো বাস্তবায়ন হয়না বা হয়ে ওঠেনা। অন্যদিকে মাদকের কবলে পড়ে অল্প বয়সী যুবকরা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে, চুরি, ছিনতাইসহ হত্যার মতো নারকীয় ঘটনা ঘটছে। মাদকের ছোবল যুবকদের গ্রাস করে ফেলছে। অভিভাবক মহল আছে চরম আতংকে, এমনকি মাদকের টাকার জন্য মা বাবাকে মারপিট করার মতো ঘটনা হরহামেশাই ঘটে চলেছে। বিপথগামী মাদকসেবিরা মা- বাবাকে অত্যাচার শুধু নয়, ঘরের মালামাল বিক্রিসহ ভাংচুরের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে নওয়াপাড়া ড্রাইভারপাড়া, গরুহাট, বস্তি এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক- জুয়াসহ নানাবিধ অপরাধের মাত্রা ভয়াবহতা হয়ে উঠছে। এবিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ এমাদুল করিম বলেন, উপজেলার সকল মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় দেওয়া হবেনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর