শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ন

ই-পেপার

গোপালপুরে কাগজে কলমে মৃত ২৭ ব্যক্তি জীবিত হলেন ‘আইসিইউ’ ফাইলে এখনো ২০৩ জন

মো.নুর আলম, গোপালপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৩, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

গোপালপুরে ২৭ মৃত ব্যক্তিকে পুনর্জীবিত করা হয়েছে। ২০৩ জন এখনো আইসিইউতে রয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে এরাও পুনর্জীবন লাভ করবেন বলে জানানো হয়েছে। উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের নিতাই চন্দ্র দাসের স্ত্রী সাবিত্রী রাণী অভিযোগ করেন, গত বছর ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় তাকে মৃত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত রবিবার মোবাইল ব্যাংক একাউন্ট করতে গিয়ে দেখেন ডাটাবেইসে তাকে মৃত দেখাচ্ছে। পরে নির্বাচন অফিসে গেলে তিনি যে জীবিত রয়েছেন, তার প্রমাণস্বরূপ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সনদপত্রসহ আবেদন করতে বলা হয়। পরে ধোপাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে গত সোমবার এ মর্মে
প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেন যে, সাবিত্রী রাণী মারা যাননি। তিনি সশরীরে ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে হাজিরা দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি জীবিত রয়েছেন। অতএব মারা যওয়ার ভুয়া তথ্য সংশোধন করে তাকে হয়রানি থেকে মুক্ত করা হোক।
একইভাবে পৌরসভার গাংগাপাড়া গ্রামের আমান আলীর পুত্র শাফিকুল ইসলাম, জোতবিষ্ণুপুর গ্রামের নিতাই দাসের পুত্র দীপক দাসসহ ২৭ জনকে মৃত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় তারা স্কুল-কলেজে সন্তানের ভর্তি, বয়স্কভাতার টাকা উঠানো, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাওয়া এবং ব্যাংকের সেবা থেকে ছয় মাস ধরে বঞ্চিত রয়েছেন। অনেকেই ভাতার টাকা বা ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা তুলতে না পেরে চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে বিশেষ ফরমে আবেদন করে মৃত তালিকা থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করতে সক্ষম হন। গোপালপুর নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন জানান, বছরখানেক আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য দেড় শতাধিক মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। এরা প্রত্যেকেই ছিলেন।
স্কুল শিক্ষক। বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং মৃত ভোটার তালিকা অন্তর্ভুক্ত করেন তারা। এদের প্রত্যেককে নিয়মাবলি শেখানো হয়। কিন্তু তারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। জীবিতদের মৃত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে হয়রানির ব্যবস্থা করেছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মতিয়ার রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মাঠকর্মীদের সন্তোষজনক হারে সম্মানি দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কাগজপত্র যাচাই- বাছাই করতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় আড়াইশ জীবিত মানুষকে মৃত দেখানো হয়েছে। এ সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। এসব মৃতদের জীবিত করতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিনই কাগজে কলমে মৃত এসব মানুষ অফিসে আসছেন। এদের জন্য পৃথক একটি ফাইল খোলা হয়েছে। এই ফাইলকে অনেকে আবার ‘আইসিইউ’ ফাইল বলে থাকেন। এই ফাইল থেকে আমরা সিরিয়ালি দরখাস্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে তাদের জীবিতদের তালিকায় স্থান দিচ্ছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিলে এসব মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনে মামলা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর