ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের চামারুল্লাহ গ্রামের শাহেদ আলীর পুত্র আলীউর রহমান (৩০) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজ ছাত্রীকে একাধিকবার বিভিন্নস্থানে ধর্ষনের অভিযোগের বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। এসময় সহযোগি হিসাবে একই গ্রামের নুরুল হুদার পুত্র হারেছ উদ্দিন (২০) কেউ আটক করা হয়েছে। ধর্ষক আলীউর পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রী। এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, প্রথমে বৃহস্পতিবার সকালে তাদেরকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করায় বৃহস্পতিবার রাতে ভিকটিম যুবতীর লিখিত অভিযোগ মামলা হিসাবে গ্রহণ করে আসামিদের কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানাযায়, উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের এক কলেজছাত্রীর সাথে আলীউরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরিচয় থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিক আলীউর একাধিকবার ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয় বলে জানায় ভিকটিম যুবতী। সবশেষ গত ২৫ জুলাই ২০২২ ময়মনসিংহ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে অন্তরঙ্গ সময় কাটায় তারা। ময়মনসিংহ থেকে আসার ক’দিন পর থেকেই হঠাৎ করে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় আলীউর। এমনকি ফেইসবুকেও তাকে ব্লক করা হয়। ভিকটিম তরুণী আরও জানায়, আমি গত বুধবার ১৭ আগষ্ট বিয়ের দাবীতে আলীউরের বাড়িতে অবস্থান করি। তখন আলীউরের পরিবার ও স্থানীয় কিছু মানুষ আমাকে নানান কিছু বুঝিয়ে অনেকটা জোর পূর্বক তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং আলীউর বাড়িতে আসলে আমার সাথে যোগাযোগ করবে বলে আশ্বাত্ব করে। কিন্তু বেশ কয়েকদিন চলে গেলেও আলীউর বা তার পরিবারের লোকজন আমার সাথে যোগাযোগ না করায় আমি গত ৩০ আগষ্ট মঙ্গলবার আবারও আলীউরের বাড়িতে অবস্থান নেই। পরবর্তীতে গত ১লা সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সিংরইল ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও চন্ডিপাশা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দীন ভূইয়ার নেতৃত্বে স্থানীয় ইউপি সদস্য মতিউর রহমান সেজু ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ সহ প্রায় হাজারও মানুষের উপস্থিতিতে আলীউরের বাড়িতে সালিশ দরবার অনুষ্ঠিত হয়। সালিশ দরবারে উপস্থিত ছিল না অভিযুক্ত প্রেমিক আলীউর। সালিশ দরবারে উপস্থিত সকলের সম্মতি ক্রমে সিদ্ধান্ত হয় ৫০ শতক জমি ভিকটিম যুবতীর নামে লিখে দিবে এবং ১০ লক্ষ টাকা কাবিনে আলীউর তরুনীকে বিয়ে করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। কিন্তু আলীউর বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সকল প্রচেষ্টা ব্যার্থ করে আবারও ওই তরুণীকে নিজ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন বিষয়টি ধামাচাপা থাকলেও উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের হস্তেেপ বৃহস্পতিবার ভোরে কথিত প্রেমিক আলীউর ও তার সহযোগীকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে নান্দাইল থানা পুলিশ।