রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ জান্নাতেও তার জন্য অনুরূপ ঘর নির্মাণ করবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫০)
কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী উল্টাখালী ফকিরাকবর জামে মসজিদে মহাল্লার মানুষদের নিয়ে একটু একটু করে এগিয়ে চলছে মসজিদটির নির্মাণকাজ। মসজিদটি ছিল টিনশেড ঘরে নড়বড়ে। স্থানীয় মুসল্লিদের দুরবস্থার কথা চিন্তা করে মসজিদ পুনর্নির্মাণকাজ শুরু করেন তারা। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে মসজিদটির নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে না মহল্লাবাসী। মসজিদ কমিটি মহল্লা ও সমাজের বসবাসরত চেষ্টায় সাধ্যমত অর্থ যোগান দিয়েও মসজিদের নির্মাণাধীন ভবনের ব্যয়ের পরিমাণ মতো অর্থ জোগাড় করতে পারছে না। মহল্লায় বসাবশত ৮০% খেটে খাওয়া সাধারণ গরিব মানুষ। তাদের পরিবারের বাইরে থাকার যোগান দেয়া সম্ভব নয়। ফকিরের খবর জামে মসজিদের যেমনটা মুসল্লি রয়েছে তেমন টাকা যোগান দেয়ার মত লোক কমই রয়েছে। চলমান মসজিদের নির্মাণকাজের কারণে নামাজ আদায় নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন মুসল্লিরা। নির্মাণকাজ শেষ করতে না পারায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মসজিদ কমিটি ও উদ্যোক্তারা। সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের উল্টাখালি ফকিরা কবরে ১৮৮০ সালের ব্রিটিশ আমলে নির্মাণাধীন এই জামে মসজিদটি ১৪২ বছরের পুরাতন। এখানে শতাধিক পরিবারের মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। তাদের বেশিরভাগই কৃষক ও খেটে-খাওয়া মানুষ।
মসজিদটি প্রতিষ্ঠালগ্নে একটি কুঁড়েঘর ছিল। পুরাতন ঢেউটিনের ছিদ্র দিয়ে মসজিদের ভেতরে বৃষ্টির পানি পড়তো। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে নামাজ পড়তে এসে নানারকম প্রতিকূলতার মুখে পড়তেন মুসল্লিরা। পুরাতন মসজিদের ভেতরের ফ্লোর, সিলিং, বারান্দার ওয়াল, বাথরুমসহ নামাজ পড়তে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
দিন দিন মুসল্লী ও নামাজীর পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা চিন্তা করে পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ২০২২ সালের মহল্লা ও সমাজের বাসিন্দা স উদ্যোগ নিয়ে উক্ত মসজিদের নতুন ভবনের কাজ শুরু করা হয়। তিনতলা বিশিষ্ট ভবনের কাজ শুরু করতে না করতে টাকা সংকট দেখা দিয়েছে।
কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে কাজের গতি বেশিদূর এগুতে পারছেনা।
মসজিদটির নির্মাণ-উদ্যোক্তা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা আবুল হোসেন বলেন, অনেক চেষ্টার পর কাজ শুরু করলেও যেমনটা পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে আমাদের টাকার পরিমান নিয়ে কাজের কিছু অংশ শেষ করতে ব্যর্থ হব এবং আসন্ন রমজানের আগে কোনরকম নামাজ পড়ার জায়গা করা করতে পারবো কিনা সন্দেহ রয়েছে।
মসজিদের মুসল্লি ও কমিটির সদস্য-আবু বক্কর বলেন, আমরা মসজিদের ফান্ডে যে টাকা ছিল সেই টাকা দিয়ে ভবনের প্রথম তলার উপরের ছাদ ঢালাই দিতে পারব বলে আশা করছিলাম কিন্তু রড সিমেন্ট কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশিদূর এগোতে পারছি না। আমরা আসন্ন রমজানের আগে ছাদ দিতে না পারলে মুসল্লিদের কি অবস্থা হবে আমরা বুঝতে পারছি না। এখন মুসল্লিরা মসজিদে এসে নামাজ আদায় করতে সমস্যায় সম্মুখীন হচ্ছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছেলে মোঃ সলিমুল্লাহ প্রকাশ দেওয়ান আলী সংবাদকর্মীকে বলেন, মসজিদের কাজ সম্পূর্ণ করতে ইঞ্জিনিয়ার স্ট্যামিট মতে ৪৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হবে। কিন্তু মসজিদের পাউন্ড বের হয়েছে ১০ লক্ষ টাকা। ইঞ্জিনিয়ারের হিসাব মতে মসজিদের পুরো কাজ শেষ করতে হলে আরো ৩০ লক্ষ টাকার মতো প্রয়োজন। ভেবে পাচ্ছি না কিভাবে কী করবো?
গ্রামের বাসিন্দা মুসল্লি আবছার মিয়া বলেন, নির্মাণকাজ শেষ না হলে মসজিদে এসে নামাজ আদায় করতে কষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ জানেন কবে টাকা-পয়সা জোগাড় হয়ে নির্মাণকাজ শেষ হবে। আমরা গ্রামের খেটে-খাওয়া গরিব মানুষ। বড় অংকের টাকা দিয়ে সাহায্য করার সামর্থ্য আমাদের নেই। তাই নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের সুযোগ হবে কিনা জানি না।
প্রতিবেদককে মহল্লা বাসী বলেন,অর্থিক সংকটের কারণে মসজিদের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামের শত শত মুসল্লীর নামাজ পড়তে অসুবিধা হচ্ছে এছাড়া নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় গ্রামের শত শত শিশু দীর্ঘ মক্তবে কোরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা মসজিদ পুণনির্মানের কাজ মুক্ত হস্তে দান করে মুসল্লিদের নামাজ পড়তে এবং শিশুদের কোরআন শিক্ষার সুযোগ করার জন্য মুসলিম ভাইদের নিকট মসজিদের পান্ডে আত্মিক অনুদানু সহযোগিতা আর্থিক অনুদান ও সহযোগিতা করার অনুরোধ করছে।
যদি কোনো মুসলিম হৃদয়বান দানবীর ব্যক্তি আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে চাইলে (সভাপতি) ০১৮১৩২২১১২৫ এই বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছেন কমিটির।