মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :

অভয়নগরে মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় নিত্যপণ্যর মূল্যে বৃদ্ধি অসহায় মানুষের বোবা কান্ন

মোঃ কামাল হোসেন,অভয়নগর প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর-বন্দর নগর নওয়াপাড়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও পণ্য সামগ্রী অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ৷ যার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় আকাশ ছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে ৷ বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষের পক্ষে দেখা দিয়েছে নাভিশ্বাস ৷

সরেজমিন দেখা যায়, ভোজ্যসামগ্রীর অন্যতম বৃহৎ মোকাম নওয়াপাড়া বড় বাজার, বউবাজার ও চেঙ্গুটিয়া এলাকায় গিয়ে পাওয়া গেছে এর সত্যতা। জানা গেছে, ১ মাসের ব্যবধানে গুঁড়োদুধের দাম কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ২৮ থেকে ৩০ টাকা। শিশুখাদ্যের মূল্যও একইভাবে বেড়ে চলেছে দিনের পর দিন। এছাড়াও সয়াবিন তেল খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩৮থেকে ১৪০ টাকা; যা গত মাসের তুলনায় ৩০ টাকা বেশি। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজি; যা আগের চেয়ে কেজিতে বেড়েছে ৬-৭ টাকা এবং চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৭ টাকা দরে।

এছাড়াও ডাল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্যসামগ্রীর দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। দ্রব্যমূল্য আরো বৃৃৃৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ৷ বিশেষ করে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলা দ্রব্যমূল্যের কারণে ক্ষোভে ফুঁসছেন অভয়নগর উপজেলার নিম্নআয়ের মানুষ। সামনের দিনগুলোতে এ দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে না ধরলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বোবা কান্না শেষ পর্যন্ত ক্ষোভের ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে ৷

শিল্প শহর নওয়াপাড়ার মানুষ জীবিকার টানে কাজ করেন। বৃহত্তর শিল্প কল কারখানার সঙ্গেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে কাজ করছেন প্রায় লক্ষ্যধিক মানুষ। এছাড়াও বিভিন্ন অটোরিকশা ও অটো ভ্যান চালিয়ে দিন চলে মানুষের যা কঠোর লকডাউনে সব আয় রোজগার বন্ধ ছিলো।

করোনার কারনে লকডাউন পরিস্থিতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারের তরফ থেকে পাওয়া ত্রাণের বাইরে জীবিকার মাধ্যম হারিয়ে বেশির ভাগ নিম্নআয়ের মানুষই খেয়ে-নাখেয়ে দিন কাটিয়েছেন ৷

তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে ছিলেন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। কারণ এসব পরিবারের লোকজন মুখ খুলে কাউকে কিছু বলতে কিংবা হাত পাততে পারেননি। লকডাউন পরিস্থিতি কাটিয়ে গত কয়েক দিনে সাধারণ জীবনে ফিরে আসার চেষ্টায় থাকা এসব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কঠিন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধির কারনে।

জুট মিল শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান,জুট মিলেও ঠিক ভাবে কাজ হয়না, বেশকিছু জুট মিল বন্ধ বেতন বাড়েনি ,একই সমস্যা অনেক মানুষের। কিন্তু বাজারে মূল্য বৃদ্ধিতে আমরা দিশেহারা।

কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আমাদের বেতন দিয়েই চলতে হয়, বলতে পারেন মাপা টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজার দরে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। কাউকে তো কিছু বলতেও পারি না। কিন্তু ক্রয়ের সক্ষমতা হারাতে বসেছে সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ। উপার্জনের সঙ্গে মিল-অমিলের হিসাব কষতে গিয়ে আমাদের বোবা কান্না কাউকে দেখানোর উপায় নেই।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্কুলশিক্ষক জানান, অভয়নগরে হঠাৎ করেই দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিত। সামনে কী হয় এ নিয়ে গুজবের ডালপালাও মেলছে। আবার জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তাই সামনে কী আছে আমাদের ভাগ্যে জানি না।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুর রহমান এপ্রতিনিধিকে জানান , দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে জরুরি আমরা এ ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার নির্ধারিত দ্রব্যমূল্য তনিশ্চিত করতে উপজেলার পাইকারি ও খুচরা বাজারে চলতি সপ্তাহে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে তবে এ অভিযান নিয়মিত চলবে ৷

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর