মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :

আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে সাংবাদিক সম্মেলন “বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরাম”

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৭:২২ অপরাহ্ণ

উপস্থিত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সকল সম্মানিত সাংবাদিক ভাইদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে কিছু বিষয় সদয় অবগতির জন্য উল্লেখ করেন “বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরাম” নতুন আহ্বায়ক কমিটি।

ক) ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

১) আপনারা সকলেই লক্ষ্য করছেন যে দীর্ঘদিন যাবৎস্থবিরতার কারণে যে উদ্দেশ্যে ফোরাম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তার লক্ষ্য অর্জনে খুব বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারেনি। ফোরামের লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে নির্বাহী কমিটি ও অন্যান্য সদস্যগণ সঠিক কর্মপদ্ধতির সমন্বয়ে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহন করতে চাইলেও ফোরামের সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট একেএম আশরাফুল হককের অসহযোগিতা ও উল্লেখযোগ্য পরিমান অসদাচারনের কারণে তা সম্ভবপর হয়নি। তিনি ফোরামের বর্তমান বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে নির্বাহী কমিটির মতামতের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ন নিয়ম বহির্ভুত ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের মাধ্যমে প্যারেন্টসদের সদস্যপদ বাতিল, স্থগিত, মতামত প্রদানের সুযোগ রহিত করে চলছেন। ফলে সদস্য প্যারেন্টসরা ফোরামের কর্মকান্ডে কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলছে। সর্বশেষ একক এডমিনের ক্ষমতাবলে তিনি ব্যতীত নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যের মতামত জানানোর সুযোগ রহিত করে রেখেছেন।

এখানে উল্লেখ্য যে করোনা মহামারীর কারণে গত বৎসর মার্চে যখন স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যায় অনান্য পেশাজীবীদের মতোই অধিকাংশ প্যারেন্টস আয়-রোজকারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, অথচ স্কুলগুলো কোন ক্লাস না নিয়েই পূর্বের হারেই টিউশন ফিসহ অন্যান্য ফি পরিশোধের জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলো, তখন ঐ অরাজক পরিস্থিতিতে আমরা প্যারেন্টসরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আহ্বানের মাধ্যমে এই ফোরাম গঠন করে আন্দোলনে নামি। তখন আমাদের নিজেদের মধ্যে তেমন কোন পারস্পরিক পরিচয় ছিলো না, একজন প্রথম সারির সক্রিয় যোদ্ধা বিবেচনায় আমরা জনাব একেএম আশরাফুল হককে আমাদের নবগঠিত ফোরামের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হতে সায় দেই। আমাদের সরল বিশ্বাসের আড়ালে তিনি সম্পূর্ণ একক সিদ্ধান্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গ্রুপ সৃষ্টি করে অধিকাংশে নিজেকে একক এডমিন হিসেবে স্বেচ্ছাচারিতার চর্চা করে চলছেন।

২) এ বৎসর তিনি ফোরামের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় নিজে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করে সেই স্কুলের চেয়ারম্যান পদে আসীন হয়ে নিজেকে স্কুল উদ্যোক্তা গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত করেছেন। ফলতঃ নৈতিক ও আদর্শিকভাবে একজন ব্যক্তি একই সাথে স্কুল উদ্যোক্তা এবং প্যারেন্টসদের প্রতিনিধিত থাকা সাংঘর্ষিক।

৩) ফোরামকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার জন্য গঠনতন্ত্র প্রনয়ণ ও সরকরি নিবন্ধনে তিনি ক্রমাহতই অনীহা প্রকাশ করে সোশাল মিডিয়া নির্ভর সংগঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছিলেন। অথচ গঠনতন্ত্র প্রনয়ণ ও সরকারি নিবন্ধন যে কোন সংগঠন পরিচালনায় অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৪) ফোরামের কার্যক্রম পরিচালনার নামে তিনি সদস্যদের নিকট হতে চাঁদা ও অনুদান গ্রহন করেন তার জন্য কাউকে কোন রশিদ প্রদানতো করেননি বরং বহুবার বলার পরও অদ্যাবধি ফোরামের আয়-ব্যয়ের কোন হিসাবও প্রদান করেননি।

৫) তিনি পূর্বতন কর্মস্থলে প্রাইম-এশিয়া ইউনিভার্সিটিতে কোষাধ্যক্ষ থাকাকালে সেখানকার এক নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানির মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেফতার হয়ে কারাগার যাওয়া ও চলমান ঐ মামলায় জামিনে থাকা গোপন করে চলা এবং মিডিয়ার কল্যাণে তা জানাজানি হয়ে ফোরামের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও কথিত আছে যে উনার নাম উক্ত ইউনিভার্সিটিতে বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় আছে। প্যারেন্টসদের একটা সংগঠনে এটা কখনোই মেনে নেয়া যায় না।

উপরোল্লিখিত কারণে সৃষ্ট স্থবিরতা কাটিয়ে উঠার জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাহী কমিটির মিটিং আহ্বানের অনুরোধ করে এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে আলাপ আলোচনা মাধ্যমেও সমাধানের উদ্যোগ নিয়েও উনার কোন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং তিনি তার স্বেচ্ছাচারী মনোভাব অব্যাহত রেখে বিভিন্নজনকে গ্রুপ থেকে বের করা বা পোস্ট ও কমেন্ট করার সুযোগ রহিত করে দিতে থাকেন। এমনকি সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ নির্বাহী কমিটি গ্রুপ ও ফেইসবুক গ্রুপে সদস্যদের পোস্ট ও কমেন্ট করার সুযোগ তিনি এডমিনের ক্ষমতাবলে রহিত করে রেখেছেন।

এমতাবস্থায় গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্যরা এক জরুরি সভায় অদ্যোপান্ত পর্যালোচনাপূর্বক ফোরামে চলমান স্থবিরতা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে জনাব একেএম আশরাফুল হককে প্রেসিডেন্ট পদ হতে অনতিবিলম্বে অব্যাহতি প্রদান ও সকল কমিটি, গ্রুপ বিলুপ্ত ঘোষণা করে ফোরামের জন্য গঠনতন্ত্র প্রনয়ণ ও সরকারি নিবন্ধনের দায়িত্ব দিয়ে ব্যারিস্টার আফরোজা আক্তার নেতৃত্বে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট ৬ মাস মেয়াদী আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এতোক্ষণ আমাদের ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপট আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আশা করি আপনারা বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। এখন আমরা আমাদের সমস্যাবলী ও কিছু বিষয়ের উপর আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

খ) স্কুল খোলা, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের টিকা প্রদান প্রসঙ্গে

পর্যায়ক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে আমরা স্বগত জানাই, তবে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে কার্যকর ও তদারকির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করাটা অতীব গুরুত্বপূর্ন বিষয়। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সকলের যথোপযুক্ত টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের পক্ষ হতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি এলাকাভিত্তিক টাস্কফোর্স গঠন করে তদারকির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হবে।

গ) যৌক্তিক টিউশন ফি নির্ধারণ ও নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি সম্বলিত স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠন

গত বৎসরের মার্চ মাস হতে স্কুলগুলো বন্ধ, পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে স্কুলগুলো অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করলেও তাদের অপারেটিং খরচ বহুলাংশে হ্রাস পায়, অন্যদিকে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য লেপটপ – কম্পিউটার, ডাটা বা ওয়াই-ফাই, বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে প্যারেন্টসদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। অথচ করোনা মহামারীতে অন্যান্য পেশাজীবীদের মতোই অধিকাংশ প্যারেন্টসদের আয়-রোজগার হ্রাস পেয়েছে, এমনকি অনেকে চাকুরী হারিয়েছে, আবার অনেক পরিবার তাদের উপার্জনকারীকেও চিরতরে হারিয়েছে। এমতাবস্থায় স্কুলগুলো টিউশন ফি বা অন্যান্য ফি আদায়ে কোন ছাড়তো দিচ্ছে না, বরং বকেয়া ফির কারণে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে এক্সেস না দিয়ে, পরিক্ষায় অংশগ্রহণে সুযোগ না দিয়ে এবং পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত করে রাখার মতো অমানবিক আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিপর্যয় ঘটানোর মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এহেন আচরণের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নাই। আমরাতো স্কুলগুলোর সকল ফি নিয়মিত পরিশোধ করে আসছিলাম, আমরা শুধু চলমান মহামারীকালে তাদের নিকট হতে মানবিক আচরণ কামনা করছি। তাই যেসকল স্কুলের নিজস্ব ক্যাম্পাস আছে তাদের অন্তত ৫০%, আর যেসব স্কুল ভাড়া ক্যাম্পাসে তাদের অন্তত ৩০% টিউশন ফি হ্রাস করে সকল ফি যৌক্তিক করণের জোর দাবী জানাচ্ছি। করোনাকালে বকেয়া টিউশন ফির জন্য কোন শিক্ষার্থীকেই শিক্ষা গ্রহনের অধিকার থেকে বঞ্চিত না করা বা পরিক্ষার ফলাফল স্থগিত না করে মানবিকতার সাথে কিস্তিতে বকেয়া পরিশোধর সুযোগ দান করার দাবী জানাই।
স্কুলগুলোর ম্যানেজিং কমিটিতে নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি থাকার আইনী বাধ্যবাধকতা থাকলেও অদ্যাবধি কোন স্কুলেই নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধির কোন অস্তিত্ব নাই, যার ফলে অভিভাবকদের কথা বলার কোন সুযোগ নাই। তাই আমরা ২০১৭ সালে ৫ই জুন সরকার কর্তৃক জারীকৃত “বিদেশি কারিকুলাম এ পরিচালিত বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা – ২০১৭” পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্কুলগুলোর ম্যানেজিং কমিটিতে নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তি এবং স্কুলগুলোর কার্যক্রম তদারকির জন্য পৃথক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার জোর দাবী জানাই।

আমরা আশা করি সরকারি উপরোক্ত বিষয়গুলোর যৌক্তিকতা অনুধাবন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

ধন্যবাদান্ত,

ব্যারিস্টার আফরোজা আক্তার
আহ্বায়ক, আহ্বায়ক কমিটি

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর