মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

জীবনের গল্প অনুষ্ঠান তৈরি করলো আরেকটি নতুন জীবনের গল্প

ফরিদ মিয়া নান্দাইল ময়মনসিংহঃ
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১, ৯:৩২ অপরাহ্ণ

একটি পরিবার তাদের জীবনের গল্প নামক ইউটিউব চ্যালেনের জন্য ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে। জন্ম দিল নতুন অন্য একটি বাস্তব জীবনের গল্প।
প্রায় একযুগ ধরে নিরুদ্দেশ ছিল নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের হিজলজানী গ্রামের শান্ত মিয়ার পুত্র মুনসুর আলী(৩৫)।

জানা যায়, শান্ত মিয়ার তিন পুত্র মুনসুর, জাহাঙ্গীর, লোকমান। তাদের মধ্যে মনসুর সবার বড়। তাকে সমাজের সবাই খুব নম্র ভদ্র ভালো ছেলে হিসেবেই জানতো।হঠাৎ করে সে সঙ্গ দোষে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।সময়ের সাথে সাথে তার মাদক গ্রহণের মাত্রা বাড়তে থাকে। পরিবার থেকে অনেক চেষ্টা করেও তাকে সে পথ থেকে ফিরাতে পারেনি।

একটা সময় এভাবে তার পরিবারের সাথে দুরত্ব বাড়তে থাকে। মাঝে মধ্যে বাড়িতে ঠিক মতো আসতো না,ঠিকমতো খাওয়া দাওয়াও করতো না। তখন সে মাঝেমধ্যে এলাকায় বিভিন্ন কর্মকান্ডে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। এ-সব দেখে অনেকেই তাকে পাগল বলতে থাকে।
এভাবেই চলছিল তার জীবন হঠাৎই একদিন মনসুর এলাকা থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। বিভিন্ন যায়গায় মাইকিং খোঁজাখুঁজি করেও তার কোন সন্ধান পায়নি তার পরিবার।

গত ১৯ আগষ্ট ইউটিউবে আপলোড হওয়া জীবনের গল্প নামক একটি ভিডিওতে গত দু’দিন আগে মনসুরের মতো একজনকে দেখতে পায় সাকিব নামে তাদের এক প্রতিবেশী ভাতিজা । বিষয়টি জানায় মনসুরের ছোট জাহাঙ্গীরকে সে দেখে তার ভাইকে চিনতে পারে।

ভিডিও’তে দেখা যায় একজন ভদ্রলোক তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে একটি ইজিবাইকে করে ঈশ্বরদী উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাবস্ক্রাইব নামক একটি শব্দ বিভিন্ন পথচারীদের উচ্চারণ করাতে দেখা যাচ্ছে। যারা শব্দটি সঠিক উচ্চারণ করতে পারছে তাদের ৫শ টাকা করে উপহার দিচ্ছে। ভিডিও’র ৬.৪৫ মিনিটে মনসুরকে সে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। শব্দটি সে সঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে না পারায় একটি বিস্কিট প্যাক ও ৫০ টাকা উপহার পায় মনসুর। তখন তাকে খুব খুশি থাকতে দেখা যায়।

এবিষয়ে জাহাঙ্গীর জানান,ভিডিওতে আমার ভাইকে দেখে চিনতে বিন্দু মাত্র কষ্ট হয়নি। আমরা ভিডিওর লোকেশন অনুযায়ী পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় ছুটে যাই।উপজেলা সদরে সেখানকার স্থানীয় লোকজনকে তার ছবি দেখালে তার অবস্থান সনাক্ত করে দেয়। সে আমাদের দেখে চিনতে পেরেছে। ৩০ আগষ্ট সোমবার সন্ধ্যায় আমরা তাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসি। স্থানীয় লোকজন বলেছে সে এলাকায় তিন বছর ধরে অবস্থান করছিল মনসুর।

জাহাঙ্গীর আরও জানায়, আমরা তার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম, আমাদের মা লতিফা ভাইয়ের জন্য কাঁদতে কাঁদতে দুটি চোখ কালো করে ফেলছে। আমাদের মা সবসময় বলতো তোরা দেখবি একদিন মনসুর ফিরে আসবে। মায়ের সে কথা আজ সত্য হয়েছে। তাকে পেয়ে পরিবার আত্নীয়-স্বজন সবাই আবেগ আপ্লূত।সবাই আনন্দে কেঁদেছে।হাজারো মানুষ বাড়িতে ভীড় করছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে তার সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর