সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

ই-পেপার

নির্মাণাধীন ব্রীজের দুটি গার্ডার ভেঙে নদীতে

রুবিনা আজাদ, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল:
আপডেট সময়: রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের চৌমোহনী এলাকার কঁচা নদীতে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন ব্রীজের দুইটি গার্ডার ভেঙে পরেছে নদীতে।
ব্রীজের মাঝ খানের ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে দুটি গার্ডার বিকট শব্দে ভেঙে নদীতে পরার ঘটনায় একজন শ্রমিক আহত হয়েছে। রবিবার দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিল আটকে দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রীজ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নকারী কর্তৃপ¶কে না জানিয়ে গার্ডার স্থাপন করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রত্য¶দর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে বিকট শব্দে ব্রীজের দুটি গার্ডার ভেঙে নদীতে পরে যায়। এসময় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। নির্মাণ কাজে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটছে বলেও স্থানীয়রা উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কঁচা নদীর ওপর ৬ হাজার তিনশ’ মিটার চেইনেজে ৪০৫ মিটার পিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এলজিইডি বিভাগের তত্ত¡াবধায়নে ব্রীজ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওটিবিএল। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু দুটি গার্ডার ভেঙে পরায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রীজটি হস্তান্তর করতে পারছেন না।

ওটিবিএল কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম জানান, প্রতিটি পিলারের মাঝে ৪৫ মিটার করে পাঁচটি গার্ডার স্থাপন করা হয়েছিল। মাঝ বরাবর ক্রেনের মাধ্যমে একটি গার্ডার সরাতে গিয়ে যান্ত্রিকত্রুটির কারণে দুটি গার্ডার ভেঙে নদীতে পরে যায়। এটি দুর্ঘটনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, গার্ডার দুটি ভেঙে পরার পেছনে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কোন গাফেলতি নেই। এটার সম্পূর্ণ দায়ভার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের। নিয়ম অনুযায়ী গার্ডার ঢালাই থেকে শুরু করে লিফটিং এন্ড সিফটিং করার সময় অবশ্যই বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। তাদের উপস্থিতিতেই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে হবে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমাদের কিছু না জানিয়েই ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। নির্মাণ কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় সেখানে যাওয়া বা খোঁজ খবর রাখতে পারেননি।

 

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর