মানিকগঞ্জ দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদীতে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজিকালে চার চাঁদাবাজকে হাতেনাতে অটক করেছে নৌ-পুলিশ। গতকাল দুপুরে দৌলতপুর বাঘুটিয়া এলাকার যমুনা নদী থেকে বালু বোঝাই চলতি নৌকা থেকে চাঁদাবাজির সময় এলাকাবাসীর সহায়তায় তাদের আটক করা হয়েছে।
অটককৃতরা হলো- মোঃ শরিফ শেখ(৩৫), পিতা-মোঃ রাহাজ উদ্দিন শেখ , ঠিকানা: স্থায়ী: গ্রাম- চর কালিকাপুর, উপজেলা/থানা- দৌলতপুর, জেলা -মানিকগঞ্জ, মোঃ লাভলু হোসেন (২৫), পিতা-মোঃ লোকমান হোসেন , ঠিকানা: স্থায়ী: গ্রাম- চর কালিকাপুর, উপজেলা/থানা- দৌলতপুর, জেলা -মানিকগঞ্জ, মোঃ শাকিল আহম্মেদ(২৮), পিতা-মোঃ বাবলু শেখ , ঠিকানা: স্থায়ী: গ্রাম- চর কালিকাপুর, উপজেলা/থানা- দৌলতপুর, জেলা -মানিকগঞ্জ, মোঃ রঞ্জু আহম্মেদ(২৬), পিতা-মোঃ রফিকুল ইসলাম , ঠিকানা: স্থায়ী: গ্রাম- চর কালিকাপুর, উপজেলা/থানা- দৌলতপুর, জেলা -মানিকগঞ্জ।
জনা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ভালো নৌকা জিম্মি করে ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা করে প্রতি ভলগেট নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে প্রতিদিনই লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্রটি।
এ নদীতে চাঁদাবাজীতে যারা জড়িত তারা খুবই ভয়ঙ্কর। দীর্ঘ দিন ধরে এই নদীতে চাঁদাবাজী বন্ধের জন্য নৌ-শ্রমিকরা মানববন্ধন করে আসছিলেন।
দৌলতপুর উপজেলার উল্লেখিত এই নদীপথ দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বলগেট যাতায়াত করে । আর ওই পথে যাতায়াতের সময় নদীপথে ভলগেট, নৌকাগুলো চলাচলের সময় বাঘুটিয়া বাচামারা এলেই নদীতে ইঞ্জিন চালিত ছোট নৌকা দিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে চাঁদাবাজ চক্রটি। সংঘবদ্ধ ওই চাঁদাবাজ চক্রটি প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে পাঁচ শতাধিক ভলগেট নৌকা থেকে ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা হারে চাঁদা আদায় করে বলে জানান ভূক্তভোগীরা।
আর এসব পেশাদার চাঁদাবাজদের চাঁদাবাজী তাদের কাছে যেন নিত্য-নৈমত্যিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের নিষ্ঠুরতা আর মারমুখী হুমকিতে ভলগেট নৌকার মাঝি-চালকরা আতংকিত অবস্থায় জীবনের ঝুকি নিয়ে চলছেন নদীপথে। এমন তথ্যই জানালেন ভুক্তভোগী মাঝি, চালক ও নৌযানের মালিকরা। চাঁদাবাজীর সাথে সম্পৃক্ত বাকীদের গ্রেফতারের দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
নৌ পুলিশের হাতে চারজন আটক হওয়ার পরে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়
এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার অফিসার ইন-চার্জ এ আর এম আল মামুন বলেন,যমুনা নদীতে বলগেট থামিয়ে বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যায় তারই ধারাবাহিকতায় নৌপুলিশ অভিযান চালায় এবং চারজনকে আটক করে চাঁদাবাজির মামলায় করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।