খাগড়াছড়ি থেকে অপহৃত পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন বান্দরবানের আলিকদম উপজেলার সীমান্ত এলাকার লংঙি ম্রো। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
লংঙি ম্রোর বাড়ি আলিকদম উপজেলার কুরুক পাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিয়াদুই পাড়া গ্রামে, যা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী একটি দুর্গম এলাকা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে লংঙি তৃতীয়। তার বাবা গত বছর মারা যান, ফলে তিনি এতিম। বড় ভাই লেখাপড়া না করে জুমচাষ করে ছোট ভাই লংঙিকে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছেন।
কুরুক পাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, এলাকাটি খুবই দুর্গম। আলিকদম থেকে গাড়িতে এক ঘণ্টায় পোয়ামুহুরী, সেখান থেকে একদিন পায়ে হেঁটে গিয়ে নিয়াদুই পাড়ায় পৌঁছাতে হয়। লংঙি ম্রোর অপহরণের খবর আমরা তার মা ও ভাইকে জানিয়েছি।” ম্রো সম্প্রদায়ের লোকজন খুবই চিন্তিত বলে জানিয়ে অবিলম্বে সকল শিক্ষার্থীর মুক্তি দাবী করেছেন তিনি।
অপহৃত বাকি শিক্ষার্থীরা হলেন—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের মৈত্রী ময় চাকমা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের রিশন চাকমা, নাট্যকলা বিভাগের দিব্যি চাকমা এবং চারুকলা বিভাগের অলড্রিন ত্রিপুরা। তারা সবাই ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
উল্লেখ্য যে, ১৬ এপ্রিল সকালে কুকিছড়া থেকে খাগড়াছড়ি সদরে যাওয়ার পথে গিরিফুল নামক এলাকায় একটি টমটম থামিয়ে পাঁচ শিক্ষার্থী ও চালককে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চালককে ছেড়ে দেওয়া হলেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
ম্রো সোস্যাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাংলাই ম্রো বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫জন শিক্ষার্থীকে কেন কি কারনে অপহরণ করা হয়েছে জানা নেই, ম্রো সোস্যাল কাউন্সিলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে অপহৃত সকল শিক্ষার্থীর সুস্থ শরীরে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দাবী জানাচ্ছি।
এছাড়াও বান্দরবানের ম্রো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে লংঙি ম্রোসহ পাঁচ শিক্ষার্থীর সন্ধান ও নিরাপদ মুক্তির দাবি করেন।