প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই পাওয়ার উৎসবে মাতবে শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের বিনামূলে বই বিতরণ করায় ঐতিহাসিক রীতিতে এবারো তার ব্যাতিক্রম হবে না বলে জানিয়েছেন লামা উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন।
এদিকে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ৮৫ টি, কেজি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২৪ টি। সেক্ষেত্রে নতুন বইয়ের চাহিদা ১লক্ষ ৮ হাজার ৯৪৭টি বই, ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৩৪ হাজার ৫ শত ৫১ টি, আরও বাকি ৭৪ হাজার ৩ শত ৯৬ টি। এখনও প্রাক- প্রাথমিক, ১ম ও ২য় শ্রেণীর এখনও কোন বই আসেনি। তবে হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই পর্যায়ক্রমে সব বই আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জন্য প্রাথমিক এবতেদায়ীসহ লামা উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩১ টি,এবতেদায়ী ১২ টি ও দাখিল ৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নতুন বইয়ের চাহিদা প্রায় ২ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৭২ টি। ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৫৪ হাজার ৮০০ শত নতুন বই। আরও ৬ষ্ট ও ৭ম শ্রেনীর কোন বই ও এবতেদায়ীর ১ম ও ২য় শ্রেণির কোন বই আসেনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার চৌধুরী বলেন, নতুন বই আসে শেষের দিকে যেহেতু এখনো আরো কিছুদিন সময় আছে তাই শেষের দিকে আরো প্রচুর বই আসতে পারে। আর যথা নিয়মে ১ জানুয়ারি বই উৎসব হবে।
তিনি বলেন, বতর্মান সরকার করোনা সংকট কালীন সময়ের মধ্যে যেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই দিয়েছে সেখানে এবারো তার ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। তবে হয়তো বা সব বই এক সাথে না পেলেও পর্যায় ক্রমে সব বই পাবে এখানে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
এদিকে গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্ব নাথ দে বলেন, আমাদের স্কুলের চাহিদা অনুযায়ী এখনো বই পাইনি। আসা করছি দ্রুত নতুন বই পাব। তবে শুনতে পাচ্ছি এখনো উপজেলাতে মাত্র অল্প সংখ্যক বই এসেছে। তবে এটা নতুন কিছু নয় জানুয়ারির শেষের দিকে প্রায় সব বই চলে আসে তাই আসা করি শিক্ষার্থীদের জন্য কোন অসুবিধা হবে না।
এ ব্যাপারে লামা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিল্কী রাণী দাশ বলেন, আমার জানা মতে অনেক উন্নত দেশেও সরকার সকল শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দেয় না। কিন্তু বর্তমান সরকার যে সাহস করে একটা উদ্যোগ নিয়েছে এবং ধারাবাহিক ভাবে প্রতি বছর বই দিয়ে আসছে এটা অনেক বড় ব্যাপার।
লামার ক্রংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রাজীব চক্রবর্তী বলেন, সরকার যখন থেকে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দেওয়া শুরু করেছে আমি কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শুনিনি লাইব্রেরী থেকে বই কিনতে হয়েছে। তবে হয়তো একটা সময় লেগেছে। আমি মনে করি এত বড় একটা কাজে সময় একটু লাগতেই পারে। তিনি বলেন, আমাদের স্কুলে ১ জানুয়ারি যথাযোগ্য এবং উৎসব মুখর পরিবেশে বই উৎসব পালন বলে প্রত্যাশা করছি।