রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

ই-পেপার

শিরোনাম :
শিরোনাম :
চৌহালীতে চুড়ান্ত ফাইনাল ফুটবল খেলা দেখতে জনতার ঢল নাগরপুরে রবিউল আওয়াল লাভলুকে সমর্থন দিলেন কনক খান বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় চৌহালীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাতে কয়লা চুরি, দিনে ছাই–বালু মিশিয়ে বিক্রি, অভয়নগরে সক্রিয় নজরুল খান চক্র বান্দরবান জেলার এসপি গজালিয়া পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন জাতীয় দৈনিক সংগ্রামের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাগরপুরে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত পাকুন্দিয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ বিষয়ে ভিডব্লিউবি’র উপকারভোগীদের নিয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত পাকুন্দিয়ায় চরফরাদী ইউনিয়নে বিডব্লিউবি উপকারভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ

আগৈলঝাড়ায় বর্ষা মৌসুমে নৌকা কেনা বেচার জমজমাট হাট নৌকা তৈরি ও বিক্রি করে স্বচ্ছলতা এসেছে সহস্রাধিক মিস্ত্রী পরিবারে

প্রতিনিধির নাম:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০, ৫:০৭ অপরাহ্ণ

রুবিনা আজাদ, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল:
আগৈলঝাড়ার প্রত্যন্ত এলাকায় বর্ষা মৌসুমে চলাচল, জীবন জীবিকা ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম বাহন নৌকা। দরিদ্র জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত এ অঞ্চলের মানুষ জীবন জীবিকার প্রয়োজনে নিবিরভাবে নিজেদের জড়িত রেখেছেন মৎস্য শিকার করে তা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে সংসার পরিচালনার কাজে। তাই বর্ষা মৌসুমে তাদের প্রধান চালিকা শক্তি নৌকা।

জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এলাকার মৎস্য শিকারীরা তাদের জীবন ধারন ও যাতায়াতের জন্য ডিঙ্গি নৌকার উপর নির্ভরশীল থাকেন। এসময় তারা নৌকায় করে জাল পেতে, চাই (মাছ ধরার ফাঁদ) অথবা বড়শি নিয়ে মাছ শিকার করেন। তাই বর্ষা মৌসুম এলেই বেড়ে যায় নৌকার কদর।
এদিকে বর্ষার কারণে ফসলী জমি বা বাড়ি-ঘর নির্মানের তেমন কোন কাজ না থাকায় এসময় কাঠ মিস্ত্রীরা তাতে নিজেদের বাড়িতে বসেই নির্মান করেন বিভিন্ন সাইজ ও ডিজাইনের নৌকা।

গ্রাম ঘুরে কাঠ মিস্ত্রীরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কিনে মিলে চেরাই করে বাড়িতে বসেই নৌকা তৈরি করে তা বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রির মাধ্যমে সংসারের বাড়তি আয় করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সহ¯্রাধিক মিস্ত্রী পরিবার বাড়তি আয়ের মাধ্যমে নিজেদের পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনছেন। মিস্ত্রীদের কাজে সহায়তা করেন তাদের স্ত্রী ও সন্তানেরা। আগৈলঝাড়ার বারপাইকা, দুশুমীরহাট, রামানন্দেরআঁক, বাটরা, বাহাদুরপুর থেকে শুরু করে ত্রিমুখি, রামশীল, সাদুল্লাপুর, পীরের বাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন নৌকা বিক্রির জমজমাট হাট দেখা গেছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, এসব এলাকার অসংখ্য পরিবার কাঠ মিস্ত্রী পেশায় জড়িত। তারা গ্রামাঞ্চল থেকে অপেক্ষাকৃত কম দামে গাছ কিনে নৌকা তৈরি করে থাকেন। এর মধ্যে জারুল, রেইনট্রি, চাম্বল, কদম, রয়না, উরিয়া আম কাঠ দিয়ে ডিঙ্গি ও ছোট-বড় আকারের নৌকা তৈরি করেন। নৌকা বিক্রির সবচেয়ে বড় হাট বাহাদুরপুর ও সাহেবের হাট। সপ্তাহে দু’দিন করে বসে এই হাট। নৌকার তৈরীর কারিগর নকুল ঘরাসী জানান, স্থানীয়রা ছাড়াও স্বরূপকাঠি, বানারীপাড়া, উজিরপুর, মাদারীপুর থেকে পাইকাররা এসে নৌকা কিনে নিয়ে যায় তাদের ওই এলাকায় বিক্রির জন্য।

বাহাদুরপুর হাটে কথা হয় নৌকা ক্রেতা সঞ্জয় বালা, শুকুমার রায়, জীবন বালার সাথে। তারা বলেন, শুধু বর্ষা মৌসুমে ব্যবহারের জন্য কমদামি নৌকাই তাদের বেশী পছন্দ। কারণ, এই সময়ে গবাদী পশুর জন্য মাঠ থেকে খাদ্য (ঘাষ) সংগ্রহসহ চলাচলের জন্য বছরে দেড় হাজার থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে এই নৌকা পাওয়া যায়। আকার ভেদে নৌকার দামও কম বেশী হয়ে থাকে। রাজিহার গামের মৎস্য শিকারী কালা চাঁদ জয়ধর জানান, বর্ষাকালে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার জন্য নৌকার বিকল্প নেই। এছাড়াও শুস্ক মৌসুমে নৌকায় খালে জাল পেতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ তরেন তিনি।

এছাড়া বর্ষা মৌসুমে যাতায়াত ও পন্য পরিবহনে নৌকা ব্যবহার বেড়েছে। বিলাঞ্চলে হাট-বাজার থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্য তাদের নির্ভর করতে হয় নৌকার উপর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর