রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন

ই-পেপার

অনশনে অনড় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ

কিবরিয়া আহমেদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ

সহপাঠীরা অনুরোধ করলেও অনশনের সিদ্ধান্ত অনড় থাকলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনরতরা। বরং আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে শপথ পাঠ করেন তারা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ১৪৭ ঘণ্টা অনশন পালন করায় জীবন সঙ্কটাপন্ন হলে আন্দোলনকারীরা সমবেতভাবে অনুরোধ করার পরও অনশন না ভাঙার সিদ্ধান্তে অনড় ২৮ শিক্ষার্থী। রাত সাড়ে ৯টায় প্রেস বিফিং করে অনশনকারীরা অনশনে অনড় থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এসময় শাবিপ্রবির সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ‘বাংলাদেশের কোন আইনে অনুজদের অর্থ সহায়তাকে অপরাধ হিসেবে ধরা হয়? তা জানার প্রশ্ন করেন তারা।

এর আগে সন্ধ্যা ৬ টায় গোল চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘এই উপাচার্যের ক্ষমতার কত লোভ বুঝেন। ২৮টি জীবন যেখানে সংকটে সেখানে সে ক্ষমতা আঁকড়ে আছে। সুতরাং জীবনের চেয়ে চেয়ার তার কাছে দামি।’

এসময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগে আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য সমবেত কন্ঠে শপথ করেন।

শপথে অনশনকারীদের উদ্দেশ্যে সহপাঠীরা বলেন, ‘অনশনকারী শিক্ষার্থীদের অকোথভয় অনুপ্রেরণা বুকে ধারণ করে আরও শক্তি ও তেজে উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’

তবে অনশন ভাঙেননি কেউ। এর মাঝে শাহরিয়ার আবেদিন নামের অনশনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার সিদ্ধান্তে আমার বিশ্বাস, অন্য সহপাঠীদের ওপর প্রভাব পড়বে না। নির্লজ্জ ভিসিকে পদত্যাগ করাতে অনশন করেছিলাম। কিন্তু সে করেনি। সুতরাং আর কটাদিন নির্লজ্জ উপাচার্য আমার ভাগের খাবার খাক।’

পরে সহপাঠীরা অনশকারীদের প্রতি দীর্ঘ মিনতি করেন। নানাভাবে তারা অনশকারীদের অঙ্গীকার দেন উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালাবেন। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করাবেন। সেসময় সহপাঠীদের অনুরোধে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা চোখ ভেজান অশ্রু জলে। তবুও প্রথমে সম্মত হচ্ছিলেন না অনশনকারীরা। পরে এক ঘণ্টা সময় চাইলেন তারা। কিন্তু প্রায় দেড় ঘণ্টা শেষে জানালেন অনশনে অনড় থাকার কথা।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অনশনরত ২০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ছিলেন। অনশনস্থলে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৮ জন। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৪ জন শিক্ষার্থী অনশনে অংশ নেন। তবে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে অনশন ভাঙানো হয়। পরে গণঅনশনে যুক্ত হন আরও ৫ জন। সব মিলে সর্বশেষ অনশনে আছেন ২৮ জন।

 

 

#চলনবিলের আলো / আপন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর