বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শহরের প্রধান সড়কের ফুটপাতে জ¦লছে সারি সারি মাটির চুলা, প্রতিটি চুলার উপরে বসানো হয়েছে বিশেষভাবে ছিদ্র করা মাটির সড়া ও লোহার কড়াই, যাকে বলে “খোলা”। একটু পরপর ঢাকনা তুলে কড়াইতে তুলে দিচ্ছেন চালের গুঁড়ার ‘গোলা’। কয়েক মিনিটের মধ্যেই গরম চিতই পিঠা ও ভাপা পিঠা নামিয়ে প্লেট ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে আগ্রহী ক্রেতাদের হাতে। পিঠার সাথে দেয়া হচ্ছে ক্রেতার পছন্দ মতো সরিষা ভর্তা, ধনে পাতা ভর্তা, মরিচ ভর্তা ও চিড়িং শুটকি ভর্তা, কালোজিড়া ভর্তাসহ আরো হরেক রকমের ভর্তা। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার পর থেকে রাতে লোক চলাচল পর্যন্ত এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে এই শীতের মৌসুমে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের প্রধান সড়ক থেকে গ্রামের হাট বাজারগুলোতেও এই শীতের পিঠা বিক্রির মৌসুমী ব্যবসায় ভাগ্য বদলাচ্ছেন বিক্রেতারা। প্রতিদিন পিঠা বিক্রি থেকে তাদের আয় হয় ৩ হাজার থেকে ৬হাজার টাকা।
উপজেলা সদরের পিঠা বিক্রেতা রশিদ মিয়া জানান, পিঠা বিক্রেতারা প্রত্যেকেই নিম্ন আয়ের মানুষ, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। শীত মৌসুম এলেই তারা ¯^ল্পপুজি নিয়ে বাড়তি আয়ের আশায় সড়কের পাশে বসে পিঠা বানিয়ে বিক্রি করে থাকেন। পিঠা বিক্রির মাধ্যমে শীত মৌসুমের কয়েক মাস চলে তাদের জীবিকা নির্বাহ। প্রতি পিস চিতই পিঠা ৫টাকা আর ভাপা পিঠা বিক্রি হচ্ছে ১০টাকা করে।
শীতের রাতে গরম পিঠার সাথে পরিচিত হয়ে উঠেছেন উপজেলার সকল শ্রেণি ও পেশার বাসিন্দারও। চিতই পিঠা জনপ্রিয় একটি খাবার হওয়ায় অনেকে বাসা বাড়িতেও নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য। বিশেষ করে রাতে ভাত খান না, বা ডায়াবেটিকে আক্রান্ত লোকজন এই পিঠা নিয়ে বাসায় নিজেদের পছন্দের সবজি দিয়ে খাবার মাধ্যমে রাতের খাবার হিসেবে গ্রহন করছেন।
ক্রেতারা বলেন, ‘বাসায় উপকরণ ও সরঞ্জাম জোগার করে পিঠা তৈরি করা এখন অনেক কষ্টকর। তাই বাজারের পিঠা তার পরিবারের সদস্যদের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। খরচও খুব বেশি না। বাড়িতে বানাতে যে কষ্ট আর আর্থিক খরচ তার থেকে এটাই ভাল।
#চলনবিলের আলো / আপন