বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত চার দিনে কমপক্ষে ২০ জন রোগী ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।
এছাড়াও আউটডোরে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। কখনও ঠান্ডা আবার কখনও গরম। এমন বৈরী আবহাওয়ার কারনে দিনে দিনে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। মহামারি করোনাকালে হঠাৎ করে উপজেলাজুড়ে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ২১ তারিখ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০ জন। এছাড়াও আউডডোরে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গত চার দিনে উপজেলার ভদ্রপাড়া গ্রামের জহিরল সরদারের ১৬ মাস বয়সের ছেলে জাকারিয়া সরদার, একই গ্রামের জাকির সরদারের বাইশ মাসের ছেলে আব্দুল্লাহ সরদার, রায়হান হোসেনের পাঁচ মাসের মেয়ে আছিয়া, বাকাল গ্রামের সাহাবুল ফকিরের চার বছরের ছেলে আশিক ফকির, কাওছার হোসেনের ছয় মাসের ছেলে তানভীর, সুজনকাঠি গ্রামের আহসান উল্লাহর এক বছরের মেয়ে আয়শা সিদ্দিকা, সাতলা গ্রামের ইস্রাফিল মোল্লার আঠারো মাসের ছেলে সাফওয়ান, সোহেল হাওলাদারের দশ মাসের ছেলে ইব্রাহিম, পলাশ হাওলাদারের দুই বছরের ছেলে আমীর হামজা, পূর্ব কাঠিরা গ্রামের সজল রায়ের ছয় মাসের মেয়ে রুশিতা, সেরাল গ্রামের মেহেদী হাসানের আড়াই মাসের ছেলে শফিউল্লাহ, তালতারমাঠ গামের বিকাশ হালদারের সতের মাসের ছেলে যুবরাজ হালদার, ডাসার গ্রামের আরিফ হোসেনের দেড় বছরের মেয়ে আরশ, উত্তর শিহিপাশা গ্রামের শিশির হালদারের চার মাসের মেয়ে সুশমিতা হালদার, একই গ্রামের মান্নান আকনের ছেলে ইমরান আকন (৪০), মনির জমাদ্দারের সাত বছরের ছেলে নাইম জমাদ্দার, চাঁদশী গ্রামের কামরুল ইসলামের তের মাসের ছেলে আহসান, দক্ষিণ শিহিপাশা গ্রামের রাজিব হালদারের নয় মাসের মেয়ে রাফসানা, কাঠিরা গ্রামের রাখাল মন্ডলের ছেলে নির্মল মন্ডল (৫৫), ফুল্লশ্রী গ্রামের রুবেল সরদারের ১০ মাসের ছেলে আয়ান ইসলাম ডায়রিয়ায় ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বখতিয়ার আল মামুন বলেন, ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর এ সময়টাতে আলাদা প্রস্তুতি থাকে স্বাস্থ্য বিভাগের। তবে বর্তমান সময়ে বিগত দিনের থেকে আক্রান্তের সংখ্যাটা একটু বেশিই। চলতি মাসের শুরু থেকে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এ থেকে রোধ পেতে হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। বিশেষ করে সবাইকে নিরাপদ খাবার গ্রহণ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর জন্য সব ধরনের ঔষধ ও স্যালাইন পর্যাপ্ত পরিমানে সরবরাহ রয়েছে। যার কারনে রোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির সাথে সাথেই সব ধরনের ঔষধ পাচ্ছে।
#চলনবিলের আলো / আপন