পাবনার আটঘরিয়ায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মারধর, বসতবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নগদ ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার লুট এবং গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
হামলায় সেকেন্দার আলী, রফিকুল ইসলাম (অমিও) ও মোছা. লাভলী খাতুন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আটঘরিয়া থানায় মো. সেকেন্দার আলী (৬১) নামে এক ব্যক্তি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রাধাকান্তপুর গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান হাবিব (৪০), মো. জাহিদ (৩৮), মো. ইউনুস আলী (৬২) ও মো. বেল্লাল হোসেন (৪২)।
জিডি সূত্রে জানা যায়, রাধাকান্তপুর গ্রামের বাসিন্দা সেকেন্দার আলীর সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাধাকান্তপুর মৌজায় তাঁর ক্রয়কৃত ২ দশমিক ৫ শতাংশ বসতভিটার জমি অভিযুক্তরা জোরপূর্বক দখল করে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে সেকেন্দার আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর চড়াও হন। এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করা হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে তাঁর বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সেকেন্দার আলী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে আমার জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে তাঁরা আমার ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখল করে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন।
আমি বাধা দিতে গেলে তাঁরা আমার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এ সময় আমার বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে নগদ ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। পাশাপাশি গাছ কেটে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় আমিসহ পরিবারের আরও কয়েকজন আহত হয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এ ঘটনায় সেকেন্দার আলী, রফিকুল ইসলাম (অমিও) ও মোছা. লাভলী খাতুন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বসতবাড়িতে ভাঙচুরের কারণে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন সেকেন্দার আলী।
ঘটনার সময় তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দা মো. নকিমুদ্দিন (৮০), মো. আব্দুল বারিক (৬৫), মো. ফাহিম হোসেন (২২)সহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডির পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, “অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” জিডিতে জমির মৌজা রাধাকান্তপুর, জেএল নম্বর ৫৮, আরএস খতিয়ান নম্বর ৯৮ এবং হাল দাগ নম্বর ১০৫ উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।