সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

গুরুদাসপুরে শালিসী বৈঠকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

নাাটোরের গুরুদাসপুরে হাতাহাতির ঘটনা মিমাংসার জন্য শালিসী বৈঠকে ডেকে নিয়ে দুইজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে গোস্ত বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সাইফুল (৫০) উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামের আজিত আলীর ছেলে। আহতরা হলেন- একই এলাকার জলিল শেখের ছেলে জহুরুল শেখ (৩৩) ও শামসের আলীর ছেলে মাজেম আলী (৩৮)। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন একই এলাকার আরেক ভুক্তভোগী রুবেল আলী। রোববার দুপুরে (২৭ সেপ্টেম্বর) দোষীদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন গ্রামবাসী। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আবু রায়হান, আয়জার প্রামাণিক, রুবেল শেখ, আব্দুল কুদ্দুস, সমেজ আলী, রাশিদা বেগম প্রমুখ। বক্তারা বলেন- ‘কসাই সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগিরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এর আগেও তারা মাদকসেবন করে এসে গালিগালাজ করেছেন। পরে শালিস ডেকে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটায়।’ অভিযোগে জানা যায়, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় গোস্ত ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের কর্মচারী আব্দুল খালেক টাকা নিয়ে কাজে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে সমেজ আলী দোকানের সামনে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় গালমন্দ করতে নিষেধ করায় স্থানীয় জলিল শেখের সাথেও বাকবিতন্ডা করেন সাইফুল। পরের দিন শনিবার রাত ৮টায় স্থানীয় প্রধান আব্দুল কুদ্দুস, আবু রায়হান ও আয়জার আলীর মধ্যস্ততায় শালিসী বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু শালিস চলমান অবস্থায় সাইফুল ও তার সহযোগিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এসময় জহুরুল শেখ ও মাজেম আলীকে কুপিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সমেজ আলীর দোকানের মালামাল লুটপাটসহ ভাংচুর করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী শালিসের প্রধান আব্দুল কুদ্দুস বলেন- ‘হাতাহাতির ঘটনায় মিমাংসার জন্য উভয়পক্ষকে শালিসে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু শালিসের সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই সাইফুল তা অমান্য করে আক্রমণ চালায় । তারা আমাকেও মারধর করেছে।’ অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বলেন- ‘কাজের মজুরী নিয়ে আমার আর খালেকের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় গায়ে পড়ে আমাদের ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে জলিল, জহুরুল ও তার লোকজন।’ গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর