রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :

থানচি রেমাক্রীতে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব,অর্ধশতাধিক আক্রান্ত

মোঃ নাজমুল হুদা, বান্দরবান প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ন

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের হামের প্রাদুর্ভাবের পর এবার বেশ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন শিশু ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
 শুা্রবার (২২মে) দুপুরে রেমাক্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুই শৈ থুই মারমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রেমাক্রী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হ্লাথোয়াই প্রু মারমা বলেন রেমাক্রী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদা ম্রো পাড়ায় ৮জন,অংহ্লা কুমী পাড়ায় ৬জন,লাইথাং মেম্বার পাড়ায় ৬ জন,রেমাক্রী বাজারে ১০জন,জাদি পাড়ায় ৫জন,কলা পাড়ায় ৫জন এবং তিন্দু ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের চিংথোয়াই অং হেডম্যান পাড়ায় ১০ জনসহ সব মিলিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শৈবাথোয়াই মারমা বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে চিংথোয়াই অং পাড়ার বাসিন্দা ও রেমাক্রী উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী খ্যাই ম্রা উ মারমা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে থানচি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রেমাক্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেনেডিক্ট ত্রিপুরা বলেন, বর্তমানে অর্ধশতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বেশি। দুর্গম এলাকার কারনে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মংসাচিং মারমা বলেন, রেমাক্রি বাজারে তিনটি ফার্মেসিতেই কলেরা স্যালাইন সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ঔষুধের অভাব পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
রেমাক্রী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুই শৈ থুই মারমা বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে ইউনিয়নে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। তাঁর মতে জুমচাষে আগাছা দমনে ব্যবহৃত বিষাক্ত ঔষধ বৃষ্টির পানির সঙ্গে ঝিরিতে মিশে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা সেই ঝিরির পানি পান করায় ডায়রিয়াসহ  বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
তিনি জানান, বর্তমানে তার হিসাব মতে ১৫ থেকে ২০ জনের বেশী ডায়রিয়া রোগী নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ার কারনে তাদেরকে হাসপাতালেও নিয়ে আসা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, এর আগে হাম রোগে আক্রান্ত শতাধিক রোগীর চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি টিম দুর্গম এলাকায় গিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন, তাদের প্রচেষ্টায় হামের পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তবে নতুন করে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান।
থানচি উপজেলার স্বাস্থ্যও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো.ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, গত এক সপ্তাহে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দুর্গম লিটক্রে এলাকায় ৮৪জন হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীকে জরুরী মেডিকেল টিম পাঠিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আমি বর্তমানে সরকারি কর্মসুচীতে কক্সবাজার অবস্থান করছি। আমি গণমাধ্যমে খবর পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ঔষুধ,স্যালাইনসহ মেডিকেল টিম পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর