সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন

রুহিয়ায় সবুজ লতায় ঝুলছে বিদেশি আনারকলি, সফল উদ্যোক্তা রিমুন

দুলাল হক, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

গাছের সবুজ লতায় ঝুলছে সারি সারি বিদেশি ফল আনারকলি। দেখতে আকর্ষণীয়, স্বাদে টক-মিষ্টি এই ফলের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার মণ্ডলাদাম গ্রামের সেনাসদস্য ও তরুণ উদ্যোক্তা রিমুন।
বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা তাঁর বাগানে এখন রয়েছে প্রায় ৫০টি গাছ। ভালো ফলন পাওয়ায় আগামী বছর বাণিজ্যিকভাবে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বিদেশি ফল প্যাশন ফ্রুট বাংলাদেশে অনেকের কাছে আনারকলি বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত। দেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের চাষ দেখা গেলেও ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় সমতল ভূমিতে এর চাষ স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
রিমুন জানান, ২০২৫ সালে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে প্রথমবারের মতো আনারকলি ফল দেখেন ও খেয়ে দেখেন। ফলটির স্বাদ ভালো লাগায় চাষের আগ্রহ তৈরি হয়। পরে ২০২৬ সালে কক্সবাজার থেকে তিনটি জাতের পাঁচটি চারা সংগ্রহ করে বাড়িতে রোপণ করেন। সেই পাঁচটি চারা থেকেই বর্তমানে বাগানে প্রায় ৫০টি গাছ হয়েছে।
গাছে ভালো ফলন এসেছে এবং ফল খেতেও খুব সুস্বাদু। প্রতিটি গাছে প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার পর্যন্ত ফল ধরতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলে সাধারণত এ ফল পাওয়া যায় না। অথচ কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি পিস আনারকলি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বছর ১০ থেকে ২০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষের পরিকল্পনা করছি।
রুহিয়ার মাটিতে নতুন এই ফলের চাষ দেখতে স্থানীয়দের ভিড় লেগেছে। অনেকেই প্রথমবারের মতো গাছে ফলসহ আনারকলি দেখছেন।
রামনাথ হাট এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সাইমুম পারভেজ বলেন, আমি প্রথমবারের মতো এই ফল দেখলাম এবং খেয়েও দেখেছি। খেতে বেশ ভালো লেগেছে। রিমুনের উদ্যোগ দেখে আমিও বাড়িতে কয়েকটি চারা লাগানোর কথা ভাবছি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এলাকার একজন তরুণ এমন নতুন ফলের চাষ করছেন, এটি আনন্দের বিষয়। বেকার তরুণেরা কৃষিকাজে আগ্রহী হলে নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
এ বিষয়ে রুহিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসিরুল আলম বলেন, আনারকলি সাধারণত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে দেখা যায়। রুহিয়ার মণ্ডলাদামে রিমুন নামে একজন ভালো ফলন পেয়েছেন বলে জেনেছি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বাগানটি পরিদর্শন করা হবে এবং চাষ সম্প্রসারণে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর