বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন

চৌহালীতে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় ১০ বছর বিনা বেতনে চাকরি করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন
oplus_0

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ‘কোদালিয়া মুসলিম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়’ ১০ বছর ধরে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ছাড়াই পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীরা। বছরের পর বছর বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের অনেকেই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সি/৫৯৫/২০০০ ইং নম্বর নিবন্ধনকৃত কোদালিয়া মুসলিম ক্লাবের উদ্যোগে ২০১৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকার প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের বিধি অনুযায়ী ৩৩ শতক জমির ওপর মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে টিনশেড ঘরে পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে। বিদ্যালয়ে প্রায় ১৩০ জন প্রতিবন্ধী শিশু পড়াশোনা করছে। তাঁদের পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় ১৬ জন শিক্ষক এবং ৮ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তবে দীর্ঘ ১০ বছরেও তাঁরা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।
সহকারী শিক্ষক আবদুল লতিফ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চৌহালীর মতো প্রত্যন্ত এলাকায় প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের জন্য এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ রয়েছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিশুদের পাঠদান করে আসছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, “প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেও প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিকভাবে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।”
বিদ্যালয়ের দাতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “কোনো ধরনের বেতন-ভাতা ছাড়াই বছরের পর বছর পাঠদান চালিয়ে যেতে গিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পরিবার-পরিজনের খরচ চালানোও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। জীবিকার তাগিদে কেউ কেউ বিকল্প পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।”
তিনি বলেন, “প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার স্বার্থে দেশের নন-এমপিওভুক্ত প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত পাঠদানের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করে তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ ১০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি, অথচ আজও কোনো বেতন পাইনি। এমপিওভুক্তির আশায় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করে এখন শুধু অপেক্ষা আর আফসোস নিয়েই দিন কাটছে। দীর্ঘদিন বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করেও কোনো সুফল পাইনি। শিক্ষা-বান্ধব সরকারের কাছে আমাদের একটাই প্রত্যাশা—বিদ্যালয়টির পাঠদানের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তি।”
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “গ্রামগঞ্জের প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে জ্ঞান ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের বিদ্যালয়গুলো এমপিওভুক্ত করা হলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং বেকারত্বও কমবে। অটিস্টিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দ্রুত এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।”
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. খালিদ মাহমুদ বলেন, “বৈন্যা গ্রামে অবস্থিত কোদালিয়া মুসলিম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়টি সাজানো-গোছানো ও পরিপাটি। দক্ষ জনবল দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করছি।”
স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষক-কর্মচারীদের অনিশ্চয়তা দূর করতে বিদ্যালয়টির পাঠদানের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর