ঘরে ঘরে নেশা ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার, বিপথে তরুণ প্রজন্ম, অভিভাবকদের আর্তনাদে ভারী বাতাস। যশোরের অভয়নগর উপজেলায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার যেন নীরব মহামারিতে রূপ নিয়েছে। উপজেলার পৌরসভা থেকে শুরু করে ৮টি ইউনিয়নের সর্বত্র একই চিত্র, উঠতি বয়সী যুবকদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার নেশায় ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একদিকে যেমন মাদক ব্যবসা ও সেবন রমরমা, অন্যদিকে মোবাইল ফোনভিত্তিক অনলাইন জুয়ার ভয়াল জাল ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে। ফলে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে অশান্তি, আর অভিভাবকদের চোখে মুখে এখন শুধুই হতাশা ও আতঙ্ক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক ও জুয়ার টাকার জোগান দিতে গিয়ে অনেক যুবক চুরি, ছিনতাই এমনকি পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছে।বনওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে পারভেজ মাদক আর অনলাইন জুয়ার নেশায় সব শেষ করে দিয়েছে। ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে ফেলেছে। কিছু বললেই মারতে আসে। থানায় জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। এমন ঘটনা এখন বিচ্ছিন্ন নয়, বরং বহু পরিবার একই যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অসহায় বাবা-মায়েদের আর্তনাদে পুরো উপজেলা যেন ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত যুবকদের একটি বড় অংশ এখন সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে। দলবদ্ধভাবে চুরি ও ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব, এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি। ফলে শান্তিপ্রিয় মানুষদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ংকর নেটওয়ার্ক: মাদক-জুয়ার আড়ালে অস্ত্রের কারবার। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই চক্রগুলো শুধু মাদক বা জুয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের সঙ্গে জড়িত রয়েছে দেশীয় অস্ত্রসহ নানা ধরনের অবৈধ অস্ত্রের লেনদেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেউ যদি এই চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, তবে রাতের আঁধারে বাড়িঘর ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। ফলে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না। এ বিষয়ে অভয়নগর থানার পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এবিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই আরও কঠোর ও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ এখনো পর্যাপ্ত নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন জুয়া দ্রুত আসক্তি তৈরি করে তরুণদের মানসিক ও সামাজিক জীবন ধ্বংস করে পরিবারে সহিংসতা ও অপরাধ বাড়ায়
তাদের মতে, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় সংকটে পড়বে।
স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত ও কঠোর পুলিশি অভিযান
অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিগত নজরদারি
পরিবার ও সমাজভিত্তিক সচেতনতা স্কুল-কলেজ পর্যায়ে কাউন্সেলিং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা। অভয়নগরে মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি এখন একটি মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে, একটি পুরো প্রজন্ম অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।