ভুক্তভোগী মো. আজিজ বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড এর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা কবির আহমদের ছেলে। বাড়ির পাশে মাতামুহুরী নদীর উঁচু চরে তার মুলা ,লাউ ও শষাসহ বিভিন্ন ফসল মিলে মোট ১৬০ শতক বা তিন কানি জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষাবাদ করতেন।
সরেজমিনে জানায়, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ঋণ ও জমানো টাকা খরচ করে তিনি তার জমিতে মূলা,লাউ,শষা, চিচিঙ্গা ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির আবাদ করেছিলেন। কিন্তু গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তার ফসলি জমি পুরোপুরি তলিয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত এ কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “এই ফসল বিক্রির টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের স্বপ্ন ছিল। বন্যায় সব ভেসে যাওয়ায় এখন আমি নিঃস্থ হয়ে পড়েছি।
স্থানীয় কৃষক সাইফুল,কাসেম,ইউছুপ,সৈয়দ কাসেম, শাসসু মিয়া,জাহাঙ্গীর, রশিদ মিয়াসহ অন্যান্য কৃষকরা জানান, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় ফসল রক্ষার কোনো সুযোগই পাওয়া যায়নি। চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় এই বন্যায় ফসলি ও ধানি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ রকম আমাদের বিভিন্ন জাতের সবজিক্ষেত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সহযোগিতা ও দ্রুত পুনর্বাসন কর্মসূচির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বমু বিলছড়ি ইউনিয়নে উপ সহকারী কৃষি অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরী করে উপজেলাতে পাঠানো হচ্চে। এ বিষয়ে আমাদের এলাকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথেষ্ট আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি সহায়তা পাবেন।
বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আল আমিন বিশ্বাস জানান, বমু বিলছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি,মৎস্য, প্রানী সম্পদ,জনস্বাস্থ্যসহ সব বিষয়ে সমন্বিতভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে । এর মাধ্যমে সঠিক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিরুপন করে উপজেলাতে পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে পরে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।