দেখতে সুন্দর বলে আম কিনে নিয়ে যাই, কিন্তু কাটার পর খাওয়ার উপযোগী থাকে না। এটা এক ধরনের প্রতারণা। তাদের দাবি, বিক্রেতারা পরিকল্পিতভাবে ফরমালিন ব্যবহার করে আম সংরক্ষণ ও পাকানোর অভিনব কৌশল গ্রহণ করছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যবসায়ীরা ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর ও জীবননগর এলাকা থেকে প্রতিদিন ট্রাক বা পিকআপে করে ৩০–৩৫ টাকা কেজি দরে কাঁচা আম সংগ্রহ করেন। এরপর আড়তে মজুদ রেখে গোপনে রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে রাতারাতি আম পাকিয়ে ৬০–৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।
এতে একদিকে যেমন ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চললেও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কিংবা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর অভিযান বা পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরমালিন মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এ ঝুঁকি আরও বেশি। নওয়াপাড়া বাজারের এই পরিস্থিতিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা, দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা। অভয়নগরের নওয়াপাড়া বাজারে ফরমালিনযুক্ত আম বিক্রির এই চিত্র শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে এই বিষাক্ত বাণিজ্য বন্ধ করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে। এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।