গুলিবিদ্ধ যুবক আরজু (৩০) ওই গ্রামের সাইফুল ইসলাম ছায়ার ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে ২০২৬ দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের জেরে গ্রামের আব্দুল আলীমের বাগানের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আরজুর পায়ে গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার এক মাস পার হলেও এখনো পর্যন্ত গুলির উৎস, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য সামনে আসেনি। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো, এত বড় ঘটনার পরও আহত যুবকের পরিবার থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কে বা কারা গুলি চালিয়েছিল? কী কারণে এ ঘটনা ঘটল? আহত ব্যক্তির পরিবার কেন মামলা করতে আগ্রহী নয়? এসব প্রশ্নের উত্তর না মেলায় ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,”ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রকাশ্য গুলির ঘটনায় দীর্ঘ সময়েও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন, অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঘটনার এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি গ্রেপ্তার না হওয়া এবং অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের পাশাপাশি রহস্যও ঘনীভূত হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য দ্রুত উদঘাটিত হবে।