শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

চৌহালীতে বর্ষার শুরুতে নৌকা তৈরির ধুম

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ন

বর্ষার শুরুতেই সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজজেলায় নৌকা তৈরির ব্যস্ততা বেড়েছে। যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দিনরাত চলছে নৌকা নির্মাণের কাজ। হাতুড়ি-বাটালের ঠকঠক শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কাঠমিস্ত্রিদের কর্মশালা ও বাড়ির আঙিনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেউ বাড়ির উঠানে, কেউ স-মিলে, আবার কেউ হাটের পাশে বসে নৌকা তৈরি করছেন। নদীবেষ্টিত চৌহালীতে বর্ষা মৌসুমে নৌকাই হয়ে ওঠে মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। বিশেষ করে খাসকাউলিয়া, খাসপুখুরিয়া, বাঘুটিয়া ও সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের অনেক এলাকায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার কারণে নৌকার বিকল্প থাকে না।
কাঠমিস্ত্রিরা জানান, বর্ষার সময়ে ছোট নৌকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। গ্রামের একপাড়া থেকে অন্যপাড়ায় যাতায়াতের জন্য ছোট নৌকা ব্যবহার করা হয়। তবে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীতে চলাচলের জন্য বড় নৌকারও প্রয়োজন হয়।
খাসকাউলিয়ার আজিমউদ্দিন মোড়ের কাঠমিস্ত্রি শুকুর আলী জানান, তিনি ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ পেশায় রয়েছেন। একটি ছোট নৌকা তৈরি করতে এক থেকে দুই দিন সময় লাগে। কাঠ, তারকাঁটা ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে একটি নৌকা তৈরিতে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়। বাজারে এসব নৌকা ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।
কাঠমিস্ত্রি আইয়ুব আলী বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি এ কাজের সঙ্গে জড়িত। বর্ষা মৌসুমে নৌকা তৈরির কাজ করে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। বছরের অন্য সময় ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন কাঠের কাজ করেন তিনি।
আরেক কারিগর রজব আলী জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি নৌকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত। বর্ষা এলেই নৌকার চাহিদা বাড়ে, ফলে এ সময় তাদের কাজ ও আয় দুটোই বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয়দের মতে, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার কারণে চৌহালীর মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নৌকা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই বর্ষা মৌসুম এলেই নৌকা নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন উপজেলার শতাধিক কাঠমিস্ত্রি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর