শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

ভাঙ্গুড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকিট বাণিজ্যে ১০ বছরে অতিরিক্ত অর্ধকোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বহির্বিভাগের ৩ টাকার টিকিট ৫ টাকায় বিক্রি করে গত এক দশকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে। চলনবিল অধ্যুষিত কৃষিনির্ভর ভাঙ্গুড়া উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৯৫ সালে ৩০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটি ২০১৭ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। তবে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর থেকেই টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ মিলিয়ে গড়ে প্রায় ৭০০ রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। সে হিসাবে প্রতিদিন অতিরিক্ত আদায় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ টাকার কাছাকাছি। সেই হিসাব অনুযায়ী গত ১০ বছরে অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, হাসপাতালের বহির্বিভাগে সরকারি নির্ধারিত মূল্য ৩ টাকা হলেও রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫ টাকা করে। প্রতিটি টিকিটে অতিরিক্ত ২ টাকা আদায় করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা এ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে জানতে পরিচয় গোপন করে হাসপাতালের কাউন্টারে দায়িত্বরত রেজাউল করিমের (হারবাল অ্যাসিস্টেন্ট) কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি ৫ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করেন।  অতিরিক্ত অর্থ আদেশ স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, অনেক বছর ধরেই ৫ টাকা দিয়ে টিকিট কাটছি। সরকারি মূল্য ৩ টাকা এটা আগে জানতাম না। যদি সত্যিই ৩ টাকা হয়, তাহলে অতিরিক্ত টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে সেটার উত্তর কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।
অষ্টমনিষা ইউনিয়নের গৃহিণী রেহানা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। হাসপাতালে আসলে ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতেই অনেক টাকা খরচ হয়। সেখানে টিকিটের জন্যও যদি বেশি টাকা দিতে হয়, তাহলে কষ্ট তো হবেই।
ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকার রিকশাচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালই ভরসা। সেখানে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলে সেটা অন্যায়। আমরা চাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক।
ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, সরকারি হাসপাতালে গরিব মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। সেখানে সরকারি নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলে সেটা অবশ্যই অনিয়ম। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, দুই টাকা হয়তো অনেকের কাছে সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন শত শত রোগীর কাছ থেকে নেওয়া হলে সেটি বড় অঙ্কের টাকা হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এমনটি হচ্ছে এর জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ কোথায় গেছে, কারা এর সুবিধাভোগী এবং কেন এতদিনেও অনিয়ম বন্ধ হয়নি, সে বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
এ সকল বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে অফ দ্য রেকর্ডে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানান।
অন্যদিকে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) কৌশিক খান বলেন, টিকিট বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর