ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ার ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহিম কর্তৃক বিএনপির অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে ফুলেল সংবর্ধনা প্রদান নিয়ে বিএনপিতে সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। তৃনমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা নিন্দা ও ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। সামাজিক যোগাযোগ ফেইসবুকে নানা রকম বিরুপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৫ আগস্ট বুধবার সকালে কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো: মজিবুর রহমান সরদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো: হাফিজুল রহমান মুরাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাবেক জেলা ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান নয়ন, যুবদল নেতা মো: মনির হোসেন, মো: সাদ্দাম, সুমন মন্ডল, রুবেল ফকির এবং মো: রাজু সহ অনেক কর্মীরা। তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে তালা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানান।
ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো: মজিবুর রহমান সরদার বলেন, কয়েকজন বিএনপি নেতা ব্যক্তি স্বার্থসিদ্ধির জন্য আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিএনপিতে ঢোকানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ইউনিয়ন বিএনপি’র সেক্রেটারী প্লেটোর চাচাত ভাই কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহিমকে জাতীয়তাবাদী দলে ভেড়ানোর অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিচুজ্জামান চপল ও সেক্রেটারী প্লেটোর যোগসাজসে মোটা অংকের বিনিময়ে বিএনপিতে যোগদানের কুটকৌশল চালাচ্ছে। এদর কারণে আমরা মামলা হামলার শিকার হয়েছি।”
ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো: হাফিজুল রহমান মুরাদ বলেন, “ইউনিয়ন বিএনপি’র প্রোগ্রামে আমাদের দাওয়াত দেয়া হয় নাই। তারা আওয়ামলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহিমকে দলে ভেড়াবেন বিধায় আমাদের দূরে রাখা হচ্ছে। আমরা থাকলে প্রতিবাদ করবো সেজন্য আমাদের দাওয়াত থেকে বঞ্চিত করেছে। আমরা কোন অবস্থায় আওয়ামী ফ্যাসিদের দলে ঢুকতে দিবো না। এই আব্দুর রহিমের সাথে আমির হোসেন আমুসহ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতাদের সাথে প্রোগ্রাম করার ছবি আছে। এরা ১৭ বছর আমাদের জুলুম নির্যাতন করেছে। এরা আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছে।এদেরকে দলে নেয়ার প্রশ্নই আসে না।”
উপজেলা বিএপির সভাপতি অধ্যাপক এসএম এজাজ হাসান জানান,“ বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় বর্তমানে দলে কোন প্রকার যোগদানের সুযোগ নেই। সাংগঠনিক সভাটি ইউনিয়ন বিএনপি অফিসের সম্মূখস্থ ইউনিয়ন পরিষদের হল রুমে বৃষ্টিজনিত কারণে অনুষ্ঠিত হওয়ায় পরিষদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ইউনিয়নের এবং ওয়ার্ড সমুহের নেতাকর্মীদের উপস্থিততে ফুল দিয়েছেন। সৌজন্যতার প্রশ্নে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সমীহ করেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের এখনও অফিস আদালত থেকে বিতারিত করার সুযোগ হয়নি। সরকার রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপারে অফিসের কার্যক্রম সম্পাদন করে আসছেন। কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ একটি সরকারের পরিচালনাধীন অফিস। ভেবে দেখুন, আপনাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম তাদের মাধ্যমে কি পরিচালনা হচ্ছে না? অতএব মূল কথা হচ্ছে এখানে ফ্যাসিবাদের আশ্রয় বা যোগদানের সুযোগ নেই।বিএনপি উদার রাজনৈতিক দল।ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ বা অনুকরণে অভ্যস্ত নয়। রাজনৈতিক ভাবে সাংগঠনিক নীতি বহির্ভূত কাজে নেতৃবৃন্দের অংশ গ্রহনের সুযোগ নেই। আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, যে কোন সিদ্ধান্ত তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন হবে। আপনারা সাংগঠনিক সভার ব্যানারটি লক্ষ্য করবেন এটি যোগদান প্রক্রিয়ার কোন ব্যানার নয়। এ সভায় ইউনিয়ন বিএনপি’র সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারাই তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি স্বচক্ষে অবলোকন করেছেন। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়গুলো উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।”
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিচুজ্জামান চপল ও সাধারণ সম্পাদক প্লোটো জানান, “ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহমানকে দলে যোগদান করানো হয় নাই। তিনি শুধুমাত্র বিএনপি নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।”