বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন

ভেষজের নামে বিক্রি হচ্ছে ক্ষতিকর ‘যৌন উত্তেজক’ শরবত: চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ন

ভেষজ ও ইউনানী চিকিৎসার দোহাই দিয়ে বাজার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে ক্ষতিকর যৌন উত্তেজক ঔষধ ও শরবত। পাবনা সদরের হেমায়েতপুরের আফুরিয়ায় অবস্থিত “ফাস্ট ল্যাব ইউনানী”-এর কারখানায় তৈরি “ল্যাবজিনসিন” নামে বাজারজাতকৃত এসব পানীয়তে নিষিদ্ধ রাসায়নিক বা স্টেরয়েডের সংমিশ্রণ রয়েছে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকেরা। জানা গেছে, কারখানাটির মূল মালিক মোঃ রাজ্জাক ইসলাম হলেও বর্তমানে ব্যবসাটির সার্বিক পরিচালনা ও দেখাশোনা করছেন তাঁর মেয়ে তানজিলা তাবাসসুম।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চটকদার ও লোভনীয় বিজ্ঞাপনে এসব পণ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণায় “যৌন শক্তি বৃদ্ধি” ও “শরীরের ক্লান্তি দূর করার” নানা অলৌকিক দাবি করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের মতে, পাবনার এই কারখানা থেকে উৎপাদিত অনিয়ন্ত্রিত এসব উপাদানের কারণে সাধারণ মানুষ মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের অবৈধ কেমিক্যালযুক্ত উত্তেজক সেবনের ফলে মানুষের শরীরে নানা রকম স্থায়ী ও মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়, অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে হঠাৎ উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি বিকল এবং লিভার নষ্ট হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব ক্ষতিকর উপাদান স্বাভাবিক যৌন ক্ষমতা চিরতরে বিনষ্ট করে দেয়।

মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও সামাজিক অপরাধ: এসব কড়া উত্তেজনাকর রাসায়নিক সেবনের ফলে মানুষের স্বাভাবিক মানসিক নিয়ন্ত্রণ ও বিবেক ব্যাহত হয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি বিকৃত মানসিকতা তৈরি করার পাশাপাশি সমাজে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য অপরাধের পেছনে পরোক্ষভাবে তীব্র অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। ইউনানী বা ভেষজ পণ্যের আড়ালে যেসব তথাকথিত এনার্জি বা যৌন উত্তেজক ড্রিংকস বিক্রি করা হয়, সেগুলোতে প্রায়শই মারাত্মক ক্ষতিকর কৃত্রিম উপাদান থাকে। এগুলো সেবনে মানুষ তাৎক্ষণিক উগ্র হয়ে ওঠে, যা সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

পাবনার আফুরিয়ার কারখানা থেকে সরবরাহ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে তানজিলা তাবাসসুম ও তাঁর প্রতিষ্ঠান সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে কুরিয়ারের মাধ্যমে এসব ক্ষতিকর পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আকর্ষিত করতে শরবতে কমলা ও বিভিন্ন ফলের সুবাস যুক্ত করে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পাবনার সচেতন মহল ও সাধারণ চিকিৎসকদের দাবি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সমাজে অনাচার-অপরাধ বৃদ্ধি রুখতে হেমায়েতপুরের এই অনুমোদনহীন ভেষজ কারখানার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ঔষধ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান চালানো প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর