বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

পঙ্গু হওয়া ফজলুর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি, পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা

পাবনা প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ন

আটঘরিয়ার দেবোত্তর ইউনিয়নের শ্রীকান্তপুরের বাসিন্দা কৃষিজীবী ফজলুল হককে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে বেধরকভাবে পিটিয়ে পঙ্গু করে দেবার ঘটনায় অভিযুক্ত মামলার আসামীরা ঘুরছে প্রকাশ্যে। মামলার আসামী হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরছেন ও পাবিপ্রবিতে অফিস করছেন মূল অভিযুক্ত।
তারা একের পর এক মামলা তুলে নেবার জন্য ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করছে ভূক্তভোগী ফজলুর পরিবারকে। এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ফজলুৃ শয্যাশায়ী থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার স্ত্রী ও তিন শিশু সন্তান। পূর্ব বিরোধের জেন ধরে গত ১৩ এপ্রিল দুপুরে তাকে লোহার রড, জিআই পাইপ ও লাঠি দিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।
এ সময় ফজলুল হকের কাঁধে তার শিশু পুত্র ছিলো, সেই অবুঝ শিশুকে নামিয়ে তার সামনেই অমানবকিভাবে পেটানো হয় বলে জানান আহতের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় মামলার অভিযুক্ত দুই নম্বর আসামী পিস্তল সদৃশ্য একটি অস্ত্র প্রদর্শন করে মামলা করলে প্রাণনাশ করা হবে বলে হুমকি প্রদান করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় হতবাক হন এলাকার মানুষ। আহত ফজলুকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকেরা তাকে রাজশাহীতে রেফার্ড করেন। পরে পাবনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার দুই পায়ে অপারেশন করা হয়। তিনি এখন পঙ্গু হয়ে বিছানায় চিকিৎসারত আছেন।
এ ঘটনায় শ্রীকান্তপুরের মরহুম মোজাম্মেল হক খানের ছেলে নুরুল ইসলাম খান (আহত ফজলুল হকের বড় ভাই) বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে আটঘরিয়া থানায় গত ১৪ এপ্রিল মামলা (নম্বর-৪/৪৬) দায়ের করেন।
মামলার আসামীরা হলেন মাহবুব আলম, তার স্ত্রী ঝর্না খাতুন, দুই ছেলে নাজমুল সাদাত নয়ন ও নাদিম মোস্তফা। ঘটনার পরে পুলিশ মাহবুব আলম ও ঝর্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করলেও তারা দুজন আদালত থেকে জামিন গ্রহন করেছেন। আদালত থেকে তাদের দুজনকে ১৮ দিনের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
এদিকে আটক না হওয়া অপর দুই অভিযুক্ত নাজমুল সাদাত নয়ন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন, ঘটনার পরে থেকে তিনি প্রতিদিন নিয়মিত অফিসও করছেন। অপরজন নাদিম মোস্তফা এডওয়ার্ড কলেজের এইচএসসিতে অধ্যায়নরত, সেও নিয়মিত ক্লাশ করছেন।
এদিকে এমন একটি অমানবিক ঘটনার পরও মামলার অভিযুক্ত দুজন আটক না হওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন এলাকাবাসী। বর্তমান তারা আহত হয়ে বিছানায় থাকা ফজলুর পরিবারের সদস্যদেরকে মামলা তুলে নিতে হুমকি প্রদান করছে বলে জানান মামলার বাদী নুরুল ইসলাম খান।
তারা দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার ও সুবিচারের জন্য জেলার পুলিশ সুপার ও আটঘরিয়া থানা পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর