সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ খাষকাউলিয়া গ্রামে কথিত পরকীয়ায় বাধা দেওয়া ও তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ গত ৯ আগস্ট ২০২৬ স্বামীর মারধরে গুরুতর আহত হয়েছেন মোছা. উম্মে সালমা। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ন্যায় বিচারের দাবি করছেন ভিকটিম।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে দক্ষিণ খাষকাউলিয়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে সালমাকে চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালের ভর্তি ফরমে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৩৪৯ এবং ‘পুলিশ কেস’ উল্লেখ রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আহত সালমার মা ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, স্বামী জহিরুল ইসলামের কথিত পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময় তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ এলাকাবাসী অবগত রয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
পরিবারের অভিযোগ, সালমাকে নির্যাতনের ঘটনায় এর আগে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ ও খাষকাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রাম আদালতের মাধ্যমে জহিরুল ইসলাম আর স্ত্রীকে মারধর করবেন না—এমন মুচলেকা দিয়ে সালমাকে তার স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আবার নারী নির্যাতন শুরু করে। তবে কয়েকদিন না যেতেই ফের তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
সালমার পরিবারের অভিযোগ, সর্বশেষ ঘটনার দিন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঠের বাটাম ও মেহগনি গাছের ডাল দিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাকে ঘরে নিয়ে ছুরি দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হলে সালমা চিৎকার শুরু করেন। এ সময় বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার না করলেও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তারা।
আহত উম্মে সালমা বলেন, “আমার বিয়ের সাধ শেষ হয়ে গেছে। এখন জীবন বাঁচা-মরার প্রশ্ন। আমি আইনের আশ্রয় নেব এবং ন্যায়বিচার চাই।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ খাষকাউলিয়া গ্রামের সন্তোষ আলীর ছেলে জহিরুল ইসলাম একই গ্রামের মৃত আবু দাউদের মেয়ে উম্মে সালমাকে প্রেমের সম্পর্কের পর পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। বর্তমানে তারা দুই সন্তানের জনক-জননী।
স্থানীয় ইউপি পরিষদ থেকে সালিসি বৈঠক/ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তার স্বামী জহিরুল মুচলেকা দিয়ে স্ত্রী সালমাকে বাড়িতে নিয়ে যায়।”
সালমার মা মোছা. আলেয়া বলেন, “এত মারধরের পরও মেয়েটি সন্তানের কথা চিন্তা করে স্বামীর সংসার করে আসছে। এখন তার বাঁচা-মরার লড়াই। আমাদের কাছে সাক্ষীসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। মেয়ে কিছুটা সুস্থ হলে ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী জহিরুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।