বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

কোরবানির চেতনায় গড়ে উঠুক মানবিক সমাজ- মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ন

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও মানবতার এক মহান শিক্ষা নিয়ে আসে। কোরবানি কেবল পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি মানুষের অন্তরের অহংকার, লোভ, হিংসা ও স্বার্থপরতাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করার এক অনন্য শিক্ষা। তাই কোরবানির প্রকৃত চেতনা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” (সুরা হজ : ৩৭)
এই আয়াত আমাদের শেখায়, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহভীতি ও আত্মশুদ্ধি অর্জন করা। বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, বরং আন্তরিকতা ও তাকওয়াই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য।
হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনুপম ত্যাগের ঘটনাই কোরবানির মূল ভিত্তি। মহান আল্লাহর আদেশ পালনে পিতা-পুত্রের নিঃস্বার্থ আত্মসমর্পণ মানবজাতির জন্য এক চিরন্তন আদর্শ। সেই ত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই মুসলমানরা প্রতি বছর কোরবানি আদায় করে থাকে।
কোরবানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতা সৃষ্টি করা। কোরবানির গোশত আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে ধনী-গরিবের ভেদাভেদ কমে আসে। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই কোরবানির অন্যতম শিক্ষা। সমাজে যদি এই সহমর্মিতা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে হিংসা-বিদ্বেষ ও বৈষম্য অনেকাংশে দূর হবে।
বর্তমান সমাজে স্বার্থপরতা, হানাহানি ও অমানবিকতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ মানুষকে ভালোবাসার পরিবর্তে প্রতিযোগিতা ও বিদ্বেষে লিপ্ত হচ্ছে। অথচ কোরবানি আমাদের শেখায়—ত্যাগ ছাড়া প্রকৃত শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই কোরবানির শিক্ষা শুধু ঈদের কয়েক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আসুন, আমরা কোরবানির প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করি। অহংকার, হিংসা ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে মানবিক, সহনশীল ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে এগিয়ে আসি। কোরবানির চেতনায় গড়ে উঠুক সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ—এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর