মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” (সুরা হজ : ৩৭)
এই আয়াত আমাদের শেখায়, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহভীতি ও আত্মশুদ্ধি অর্জন করা। বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, বরং আন্তরিকতা ও তাকওয়াই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য।
হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনুপম ত্যাগের ঘটনাই কোরবানির মূল ভিত্তি। মহান আল্লাহর আদেশ পালনে পিতা-পুত্রের নিঃস্বার্থ আত্মসমর্পণ মানবজাতির জন্য এক চিরন্তন আদর্শ। সেই ত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই মুসলমানরা প্রতি বছর কোরবানি আদায় করে থাকে।
কোরবানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতা সৃষ্টি করা। কোরবানির গোশত আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে ধনী-গরিবের ভেদাভেদ কমে আসে। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই কোরবানির অন্যতম শিক্ষা। সমাজে যদি এই সহমর্মিতা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে হিংসা-বিদ্বেষ ও বৈষম্য অনেকাংশে দূর হবে।
বর্তমান সমাজে স্বার্থপরতা, হানাহানি ও অমানবিকতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ মানুষকে ভালোবাসার পরিবর্তে প্রতিযোগিতা ও বিদ্বেষে লিপ্ত হচ্ছে। অথচ কোরবানি আমাদের শেখায়—ত্যাগ ছাড়া প্রকৃত শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই কোরবানির শিক্ষা শুধু ঈদের কয়েক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আসুন, আমরা কোরবানির প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করি। অহংকার, হিংসা ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে মানবিক, সহনশীল ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে এগিয়ে আসি। কোরবানির চেতনায় গড়ে উঠুক সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ—এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।