পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর আখ্যা দিয়ে প্রফেসর মোঃ আব্দুল আউয়ালকে অপসারণের দাবি করা সেই শিক্ষক সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
গত (১০-১১-২০২৪) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রনালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে আব্দুল আউয়ালকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছিল। হটাৎ তিনি পুনরায় সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ পাবনার অধ্যক্ষ হতে বিএনপি সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের কাছে তদবীর চালাচ্ছেন।
একাধিক সুত্রের দাবি, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে উপাধ্যক্ষ হওয়া আব্দুল আউয়াল অসাধু পন্থায় অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে বর্তমান উপাধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য ক্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দুর্নীতিবাজ সাবেক ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট শামসুল হক টুকুর নিকট থেকে টাকার বিনিময়ে গত ০৭/০৬/২০২০খ্রি. তারিবে একটি ডিও লেটার গ্রহণ করেন। এই ডিও লেটার সহ মন্ত্রণালয়ে তিনি আবেদন করেন। যেটি চাকুরি বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্ত্রী। উপাধ্যক্ষ পদে যোগদানের জন্য টাকার বিনিময়ে ঐ একই ব্যক্তির নিকট থেকে ডিও লেটার নেন। এ কাজে তাকে সহযোগীতা করেন কলেজেরই আরও দুইজন দুর্নীতিবাজ ও চরিত্রহীন শিক্ষক। তারা হলেন হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার সিরাজুল ইসলাম মুরাদ এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর মো: আব্দুল মজিদ। উপাধ্যক্ষ পদে যোগদানের জন্য আব্দুল আউয়াল বেড়া উপজেলার ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন কে ছয় লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। ২০০৫ সালে ছাত্রী হোস্টেলের অর্থ আত্মসাতের দায়ে তাকে এডওয়ার্ড কলেজ থেকে অন্যত্র বদলী করা হয়েছিলো। ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি আবার এডওয়ার্ড কলেজে ফিরে আসেন। তার পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি, মুরাদ এবং মজিদ এই গং মিলে অর্থ ছিটিয়ে কলেজের পরিবেশকে নষ্ট করে যাচ্ছে। কারন তিনি অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য মতিয়া হয়ে উঠেছেন। শোনা যায় তিনি এই পদের জন্য এখন পর্যন্ত দশ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের কিছু আওয়ামী দোসর, অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাকে সহযোগীতা করছেন। ৫ই আগষ্ট ছাত্র জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও তিনি মুজিব বর্ষের লোগো ও শ্লোগান ৪ ব্যবহার করে গত ২২-০৯ ২০২৪ তারিখে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে একটি অফিস আদেশ করেন যেটি পরবর্তিতে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ৫ আগষ্ট ছাত্র জনতার বিপ্লবের পরেই তিনি ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে তার রুমে রুদ্ধদার বৈঠক করেন। যেটি পরবর্তিতে কয়েকটি পত্রিকায় পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে ১৪-০৯-২০২৪ তারিখে ভিডিওসহ প্রকাশিত হয়।
উল্লেখ্য, তৎকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর আব্দুল আউয়াল কে জুরুরি ভিত্তিতে উপাধ্যক্ষ পদ থেকে অপসারন অথবা তাকে চাকুরি হতে অপসারণেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করতে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুল আওয়ালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ জন্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি।