নওগাঁর রাণীনগরে মালঞ্চি-নান্দাইবাড়ি-কৃষ্ণপুর বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার না করায় ভাঙ্গন ঝুঁকির শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই সাথে হুমকির মুখে পড়েছে হাজারো হেক্টর ফসলি জমি। ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামীণ এই বাঁধের খবর পেয়ে সোমবার (১১মে) দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে যান রাণীনগরের ইউএনও রাকিবুল হাসান। এসময় বাঁধটি সংস্কারের মাধ্যমে স্থায়ী সমধানের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর ছোট যমুনা নদী জেলার রাণীনগর উপজেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে। আর এই যমুনা নদীর তীরবর্তীতে বসবাস করছেন হাজারো মানুষ। সেই সাথে রয়েছে হেক্টরে হেক্টরে আবাদি জমি। বর্ষাকালে পানির স্রোতে নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে মানুষের বসতবাড়ির কাছে এসে ঠেকেছে। এতে করে আতঙ্কে রয়েছে সেখানকার বসবাসরত বাসিন্দারা। বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে তারা। ইতিপূর্বে একাধিকবার এই বাঁধ ভেঙে শত শত বাড়িঘর ও হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া এটি গ্রামীণ বাঁধ হলেও আশেপাশের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
গোনা ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় আশির দশকে নির্মিত গ্রামীণ এই বেড়িবাঁধটি বছরের পর বছর স্থায়ীভাবে সংস্কার কিংবা মেরামত না করার কারণে বাঁধটির প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলো। গত ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো বাঁধের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কিছু অংশ মেরামত করা হলেও বর্তমানে খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। তাই বেড়িবাঁধটি স্থায়ীভাবে মেরামত করে নদী পাড়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রশাসনের উদ্যোগী হওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয় আশিক, সম্রাট ও রাসেল সহ একাধিক নারী-পুরুষ জানান, বর্ষাকাল আসলেই আমাদের বসতবাড়ি ও ফসলী জমি নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। বাঁধ ভেঙ্গে কখন পানির নিচে চলে যাবে সেই আশঙ্কায়। কারণ পূর্বে বর্ষা মৌসুমে ছোট যমুনা নদীর স্রোতে এই বাঁধ ভাঙার কারণে নওগাঁ-আত্রাই সড়ক ভেঙেছিল। এতে করে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং হাজার হাজার হেক্টর জমির ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। তাই নদীতে যখনই পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হতো তখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছোটাছুটি শুরু করতো। আর যখন নদীতে পানি থাকে না তখন বাঁধটি মেরামত কিংবা সংস্কার করার কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করা হতো না। কাজেই আমরা চাই স্থায়ীভাবে বাঁধটি মেরামত করা হোক।
স্থানীয় যুবক ফজলে রাব্বি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই নদী ভাঙনের সম্মুখীন হয়ে আসছি। এতে করে আমাদের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বার বার। আমাদের এলাকার অনেক বাড়ি ঘরের ভিতরে পানি চলে আসে। বন্যার পানিতে গরু, ছাগল, হাঁস মুরগি সব ভেসে যায়। আমরা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিগুলোও হারিয়ে ফেলছি নদীর জলে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এসব সমস্যা থেকে আমরা এলাকাবাসী চির মুক্তি চাই।
এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়েছিলাম বাঁধটি দেখতে। বাঁধটির অবস্থা মোটামুটি খারাপ। ভেঙে গেলে অনেক পরিবার বিলীন হয়ে যাবে। তাই এই বাঁধটি স্থায়ীভাবে রক্ষা করার জন্য উর্ধ্বতন স্যারকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই বাঁধটি ভেঙে গেলে রাণীনগর-আত্রাই সড়কও হুমকির মুখে পড়ে। এতে অনেক ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কাজেই বাঁধটি দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।