রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যার তিনদিন পার হলেও জড়িতদের আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী 

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর):
আপডেট সময়: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ন

ভবনের রুম ভাড়া নিয়ে বিরোধের দাবি, তবে পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না খতিয়ে দেখছে অনুসন্ধানী টিম; হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বন্ধ বাজার, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামেও গ্রেপ্তার নেই।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার শিল্প ও বাণিজ্যনগরী নওয়াপাড়ায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান (৬৫) হত্যাকাণ্ড ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ভবনের রুম ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠলেও, ঘটনার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহত আনিছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নওয়াপাড়ার বোয়ালমারী পোল এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি জয়েন্ট ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক ছিলেন এবং একসময় আজকের বসুন্ধরা পত্রিকার পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে গত ৬ মে সন্ধ্যার পরে নওয়াপাড়া পীরবাড়ি এলাকায় তার নিজস্ব ছয়তলা ভবনের সামনে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনের রুম ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নওয়াপাড়া পৌর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ মাহমুদ হাসান (৩৮) কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে আনিছুর রহমানের ওপর হামলা চালান। শাহ মাহমুদ পীরবাড়ি এলাকার শাহ জুনায়েদের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে ধারালো চাই নিজ কুড়াল দিয়ে ডান চোখ বরাবর কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পেয়েছে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার। ফুটেজে হামলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আনিছুর রহমানকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো নওয়াপাড়া এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ হিসেবে নওয়াপাড়া বাজারের অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। বিকেলে নওয়াপাড়া স্টেশন বাজারে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। পুরো এলাকায় বিচার দাবির স্লোগান ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় শাহ মাহমুদ হাসান ও গুয়াখোলা এলাকার নাসিরসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগ ওঠেছে, মামলা হওয়ার পরও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছেন, ঘটনার পর শুরুতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় গোপন রেখে সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের পরিচয় ছড়িয়ে পড়লে জনমতের চাপের মুখে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেতে শুরু করে। এদিকে হামলার সময় উপস্থিত আরও এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের অনুসন্ধানে। তবে প্রশাসনিক তদন্তে সহায়তার স্বার্থে তার পরিচয় এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হামলার পরও আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নওয়াপাড়াজুড়ে। এটি শুধুই কি ঘর ভাড়ার বিরোধ, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো দ্বন্দ্ব কাজ করেছে, সেই উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভয়নগরবাসী। এবিষয়ে অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আসামি আটকের চেষ্টা করে যাচ্ছি দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িত আসামিদের আটক করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর