সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার বড় চৌবিলা এলাকায় মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগের পর মো. হৃদয় হোসেন (১৮) নামে এক তরুণ নিখোঁজ রয়েছেন। ৮ অক্টোবর রাতে স্থানীয় একটি মুদি দোকানের সামনে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা মো. আবু সামা। ঘটনার পর থেকে হৃদয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি পরিবারের। ছেলের সন্ধান ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে সলঙ্গা থানার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হৃদয়ের বাবা।
অভিযোগে মো. আবু সামা উল্লেখ করেন, গত ৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বড় চৌবিলা এলাকার সবুজের মুদি দোকানের সামনে তাঁর ছেলে হৃদয়কে একা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম (৩৫) অতর্কিতে মারধর করেন। এ সময় লাঠি দিয়ে আঘাতসহ চোখেমুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাঁকে জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, ঘটনার সময় তিনি ও তাঁর স্ত্রী বিষয়টি জানতে পারেননি। পরদিন সকালে ছোট ছেলে রাজু আহমেদের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, আগের রাতে হৃদয়কে মারধর করা হয়েছে। পরে ছেলের খোঁজ করতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, হৃদয় বাড়িতে ফেরেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন আবু সামা। তখন জাহিদুল তাঁকে বলেছেন, হৃদয় আগে তাঁকে মারধর করেছিলেন, পরে তিনি হৃদয়কে মারধর করেন এবং উল্টো হৃদয়ের বাবাকে হুমকি মূলক কথা বলেন।
মারধরের পর থেকেই নিখোঁজ, উদ্বেগে পরিবার
আবু সামার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় মুদি দোকানদার মো. সবুজ তাঁকে জানিয়েছেন, জাহিদুল লাঠি দিয়ে আঘাতসহ হৃদয়কে মারধর করেছেন। এরপর থেকেই হৃদয়ের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি পরিবারের।
ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আবু সামা অভিযোগে আশঙ্কা করেছেন, তাঁর ছেলে কোনো ধরনের ক্ষতির শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তবে হৃদয়ের বর্তমান অবস্থান, তাঁর নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ কিংবা এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিবারের দাবি, হৃদয়ের সন্ধানে স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করছেন। একই সঙ্গে তাঁরা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও ছেলেকে খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সালিশেও মেলেনি সমাধান, থানায় অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে আবু সামা আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে সাক্ষী হিসেবে মুদি দোকানদার সবুজ মিয়া, মোছা. রাবেয়া খাতুন, মো. রাজু আহমেদ ও মো. ছাবের আলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, কে পরবর্তী সময়ে ঘটনা জেনেছেন এবং কার কাছে কী তথ্য রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
পরিবারের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক
আবু সামা বলেন, তাঁর ছেলের সন্ধান না পাওয়ায় তাঁরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ছেলের সন্ধান এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আছলাম আলী জানান, অভিযোগটি থানায় গ্রহণ করা হয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, নিখোঁজ তরুণের সন্ধান এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই এখন পরিবারের প্রধান প্রত্যাশা। অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে এমনটাই আশা করছেন স্বজনেরা।