বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

১৭ শিক্ষকেও ঘুচল না ফল বিপর্যয়, ১৯ জনের সবাই ফেল

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন

একদিকে ১৭ জন শিক্ষক, অন্যদিকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৯ শিক্ষার্থী। অথচ এত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সমন্বয়েও এবারের দাখিল পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি একজন শিক্ষার্থীও। ফলে মাদ্রাসাটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্যে। এমন ফলাফল ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে। ঘটনাটি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাগুরা দাখিল মাদ্রাসার।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় মাগুরা দাখিল মাদ্রাসা থেকে অংশ নেয় ১৯ জন শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ ১৯ জনই ফেল করেছে। এতে মাদ্রাসাটির পাসের হার নেমে এসেছে শূন্য শতাংশে।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকসংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবকরাও। তাদের ভাষ্য, ১৯ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১৭ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও যদি একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারে, তাহলে কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক দুই বছর নয়, টানা প্রায় এক দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটির দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চলছে বিপর্যয়। পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় শিক্ষকদের পাঠদান, নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষকদের একটি অংশ নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। অনেক শিক্ষক ভাঙ্গুড়া শহরে বসবাস করেন। প্রত্যন্ত চলনবিল অঞ্চলে অবস্থিত মাদ্রাসাটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
তাদের আরও অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষ সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও নিয়মিত পাঠদানের ঘাটতির কারণে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী হারাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সচেতন অভিভাবকরাও সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। ফলে বছরের পর বছর ধরে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে মাগুরা দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ২৬ বছর পর ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। এমপিওভুক্তির পরও প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাদ্রাসাটিতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থান এবং যাতায়াতের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

মাদ্রাসাটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষকরা ঠিকমতো পড়াশোনা করান না। অনেকেই নিয়মিত আসেন না। শুধু বেতন তোলেন এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ কারণে এলাকার সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এখানে দিতে চান না। প্রায় ১০ বছর ধরে মাদ্রাসায় কাম্য শিক্ষার্থী নেই, পাশাপাশি ফলাফলও খারাপ হচ্ছে।

এবারের ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে মাগুরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার জাকির হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গ্রামের ছেলেপেলে ঠিকমতো পড়ে না। তাই ফলাফল খারাপ হয়েছে। মাফ চাই। নিউজ কইরেন না।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান শিক্ষার্থীদের ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই মাদ্রাসায় ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর