সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন

সহায়সম্বল বিক্রি করে কেনা জমি রাঘববোয়ালদের কব্জায়, দারে দারে ঘুরছেন অভয়নগরের হাফিজ

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ন

দলিল-খাজনা সব ঠিক থাকলেও দখল পাননি জমি, প্রভাবশালীদের হুমকিতে মানবেতর জীবন। যশোরের অভয়নগরে নিজের সহায়সম্বল বিক্রি করে স্বপ্নের বাড়ি গড়ার আশায় জমি কিনেও এখন দখল বুঝে পেতে দারে দারে ঘুরছেন মোঃ হাফিজ মোল্লা নামের এক ভুক্তভোগী। বৈধ দলিল, নামজারি ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেও জমির দখল না পাওয়ায় তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভয়নগর উপজেলার সিংগাড়ী গ্রামের মোস্তাইন মোল্লার ছেলে মোঃ হাফিজ মোল্লা নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর গ্রামের মৃত দেবদাস মুখার্জীর ছেলে উত্তম কুমার মুখার্জীর নিকট থেকে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ৬৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমিটির জেএল নং ১০৮ এবং আরএস খতিয়ান নং ৩৩৫। ক্রয়কৃত জমির কবলা দলিল নং ৫০৯, তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২০।

জমি ক্রয়ের পর তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নামজারি সম্পন্ন করেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। নামজারি কেস নং ২.৭৬৯(ix-i) ২০২৪-২৫, তারিখ ৭ অক্টোবর ২০২৪ এবং নামজারি খতিয়ান নং ৬১১, ডিসিআর নং DCR24657610802769। বর্তমানে তার নামে নামজারিকৃত জমির পরিমাণ ৬০ শতাংশ ৮৩ পয়েন্ট বলে জানা গেছে। কিন্তু জমি কেনার পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি, আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত টুটুল মুখার্জী ও ফটিক মুখার্জীর নজরে পড়ে জমিটি। অভিযোগ রয়েছে, তারা বিভিন্নভাবে হাফিজকে জমির দখল বুঝে নিতে বাধা দেন। এমনকি তৎকালীন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এদিকে জমির বিক্রেতা উত্তম কুমার মুখার্জী জমি বিক্রির পর ভারতে চলে যাওয়ায় ভুক্তভোগী আরও অসহায় হয়ে পড়েন। ফলে আইনগতভাবে বৈধ মালিক হয়েও জমির বাস্তব দখল পাননি তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আশা করেছিলেন এবার হয়তো জমি ফিরে পাবেন। কিন্তু বাস্তবে তার পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং অভিযোগ উঠেছে, পূর্বের প্রভাবশালীরা স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতাকে অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত করে নতুন করে হুমকি দিতে শুরু করেছে। বর্তমানে হাফিজ নিজের বৈধ সম্পত্তি ফিরে পেতে বিভিন্ন মহলের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তার ভাষ্য, সবকিছু বিক্রি করে এই জমি কিনেছিলাম। এখন জমি তো দূরের কথা, নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় আছি। তিনি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তার জমির মালিকানা যাচাই করে দ্রুত দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। সবকিছু হারিয়ে বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই ভুক্তভোগী। স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সুষ্ঠু সমাধান না হলে এ ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর