অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে পিইডিপি-৪ এর আওতায় রাণীনগর উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত-সংস্কার কাজসহ মানোন্নয়নের জন্য দেড় লাখ টাকা করে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী- কাজ সম্পন্ন করে সরকারি কোষাগার থেকে বিল উত্তোলন করতে হয়। কিন্তু এই বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম উপজেলায় থাকাকালীন সময়ে ১০টি বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত-সংস্কার কাজসহ মানোন্নয়নের জন্য বরাদ্দের ১৫ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য কাজের আগেই কাজ সম্পন্নের ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে বরাদ্দের ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ২ জুন উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে বরাদ্দের টাকাগুলো উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ২ জুন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম অবসরে চলে যান। এরপর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. রেবেকা সুলতানা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি কোষাগার থেকে বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের আগে বরাদ্দপ্রাপ্ত ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত বা সংস্কারসহ কোন কাজই করা হয়নি। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণের পর কোন কোন বিদ্যালয়ে জুন মাসে কাজ শুরু করে তরিঘরি করে কাজে নয়-ছয় করে জুন মাসেই কাজ শেষ করা হয়েছে। আবার কোন কোন বিদ্যালয়ে এখনো কাজ চলমান রয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, কাজের আগেই ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা উত্তোলন করা স্বচ্ছতার অভাব ও অনিয়ম-দুর্নীতির শামিল।
জানতে চাইলে রাণীনগর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা চন্দন কুমার প্রামানিক বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা কাজ সম্পন্নের বিল ভাউচার জমা দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী বরাদ্দের ১৫ লাখ টাকা শিক্ষা অফিসের শিক্ষা কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। কাজ হয়েছে না হয়নি সেই জবাব শিক্ষা কর্মকর্তাই দিবে।
কাজের আগে ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে অবসরে যাওয়া শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
রাণীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. রেবেকা সুলতানা বলেন, বরাদ্দের টাকাগুলো শিক্ষা অফিসের পিইডিপি-৪ এর অ্যাকাউন্টে রয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত যে বিদ্যালয় কাজ সম্পন্ন করেছে- তাদের কাজ দেখে বিল দেওয়া হয়েছে। আর যারা এখনো কাজ সম্পন্ন করেনি কাজ সম্পন্ন করলে তাদের বিল দেওয়া হবে।