পরকীয়া, মানসিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ,ন্যায়বিচারের দাবিতে অসহায় স্বামী ও কন্যা। যশোরের অভয়নগর উপজেলায় স্ত্রীর ধারাবাহিক মানসিক নির্যাতন, পরকীয়া সম্পর্ক এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এক স্কুল শিক্ষক। ভুক্তভোগী নাজমুছ সাকিব লিটু (৫০) দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে পূর্বচল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ সালে উপজেলার মশরহাটি গ্রামের মৃত রওশানুজ্জামের মেয়ে মোছাঃ রাবেয়া খাতুনের সঙ্গে মহাকাল গ্রামের শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে নাজমুছ সাকিব লিটুর বিবাহ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রী রাবেয়া খাতুন সেনাবাহিনীর সদস্য রাসেল আহমেদ সন্জু নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সংসারে অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন শিক্ষক লিটু। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে রাবেয়া খাতুন ও তার কথিত পরকীয়া প্রেমিক রাসেল আহমেদ লিখিত অঙ্গীকার করেন যে, তারা ভবিষ্যতে কোনো অনৈতিক সম্পর্কে জড়াবেন না এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন না। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে পুনরায় তারা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং রাবেয়া খাতুন স্বামীর সংসার ত্যাগ করে চলে যান। এরপর গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে যশোরের বিশেষ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে নাজমুছ সাকিব লিটুসহ তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন রাবেয়া খাতুন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত-২০২৩)-এর ১১(খ)/৩০ ধারায় দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, এটি তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে করা একটি মিথ্যা মামলা। নিজের সম্মান রক্ষার্থে এবং পারিবারিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কন্যার পরামর্শে স্ত্রীকে তালাক দেন শিক্ষক লিটু। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, কথিত প্রেমিক রাসেল আহমেদও পরবর্তীতে রাবেয়া খাতুনকে ত্যাগ করেন।
বর্তমানে রাবেয়া খাতুন স্বামীর বাড়ির সামনে অবস্থান করে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে ভুক্তভোগীর নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র কন্যা ফাতেমা আক্তার একটি ভিডিও বার্তায় মায়ের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে তার বাবার সম্মানহানির বিচার দাবি করেছে।
এ ঘটনায় নাজমুছ সাকিব লিটু সমাজের সচেতন মহল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। এবিষয়ে অভিযুক্ত রাবেয়া খাতুন বলেন, আমার স্বামী আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট আমাকে ফাঁসানোর জন্য সে এইসব করছে। আপনার মেয়ে আপনার বিরুদ্ধে ভিডিও বার্তায় যে অভিযোগ করেছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার স্বামী ও আমার মেয়ে দুইজনই খারাপ তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছে।