রবিবার (২৭ জুলাই) আয়োজিত এ সভার মূল বিষয় ছিল পুলিশ নারী সহায়তা ডেস্কের সেবা সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (GBV) প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
সভায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের জন্য পুলিশ নারী সহায়তা ডেস্কের বিভিন্ন সেবা এবং আইনগত সহায়তা সম্পর্কে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে নারী ও শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় অতিথিদের বক্তব্যে চৌহালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জাহিদ মোল্লা বলেন, “নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
চৌহালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ক্বারী ময়নুল ইসলাম বলেন, “নারী ও শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোনো ভুক্তভোগী যেন ভয় বা সংকোচে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে পুলিশ নারী সহায়তা ডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সমাজের প্রতিটি মানুষকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
চৌহালী থানা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে জেলা পুলিশ, সিরাজগঞ্জ এবং ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চৌহালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জাহিদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ক্বারী ময়নুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, নারী প্রতিনিধিসহ কমিউনিটির সদস্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে চৌহালী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কেবল পুলিশের একার দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি পুলিশ নারী সহায়তা ডেস্কের সেবা সম্পর্কে সবাইকে অবগত হওয়ার এবং কোনো ধরনের অপরাধ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি নিরাপদ, মানবিক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।