সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ধুবিল মেহমানশাহী গ্রামের সেই গর্বিত ও রত্নগর্ভা মা জহুরা খাতুন আর নেই।গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় ধুবিল মেহমানশাহী পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে।মৃত্যুকালে তিনি স্বামী,সাত সন্তান,নাতী-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমা জহুরা খাতুন ও আব্দুল করিম দম্পতির এই ‘বন্ধন পরিবার’ সিরাজগঞ্জ জেলা তথা সারা দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এই দম্পতির ৭ সন্তান এবং ২ পুত্রবধূসহ পরিবারের মোট ৯ জন সদস্য বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদে কর্মরত থেকে দেশের সেবা করছেন। রত্নগর্ভা এই মায়ের সন্তানদের সাফল্যের গল্প এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে পরিচিত।
সাফল্যের শিখরে থাকা এই পরিবারের ৯ জন সরকারি কর্মকর্তা তারা হলেন, ছানোয়ার হোসেন-সাবেক মিউজিক ইন্সট্রাক্টর,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ফিরোজ আহমদ-সিনিয়র সহকারী শিক্ষক,নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,ফোরহাদ হোসেন-সহযোগী অধ্যাপক (বিসিএস ২২তম ব্যাচ) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ,সরকারি আকবর আলী কলেজ,উল্লাপাড়া,রফিকুল ইসলাম-জেলা প্রশাসক (ডিসি) দিনাজপুর,শফিকুল ইসলাম- পোস্টমাস্টার,প্রধান ডাকঘর-নাটোর, ফরিদুল ইসলাম-কর্মকর্তা,বাংলাদেশ রেলওয়ে,কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন- ঢাকা,বিজলী খাতুন-প্রধান শিক্ষক, ধুবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সিরাজগঞ্জ,আজমেরী সুলতানা (পুত্রবধূ)-সহকারী অধ্যাপক (বিসিএস ৩২তম ব্যাচ) রানী ভবানি সরকারি মহিলা কলেজ-নাটোর ও
মাহবুবা সুপ্তি (পুত্রবধূ) সহকারী শিক্ষক, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- সিরাজগঞ্জ।
আজ সকালে তার গ্রামে অনুষ্ঠিত জানাজায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। রত্নগর্ভা মায়ের এই বিদায়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন যেন তারা আজীবন সুস্থ ও সৎ পথে থেকে দেশের সেবা করে যেতে পারেন।
এই মহীয়সী নারীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সলঙ্গা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।মরহুমার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।