সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সম্ভুদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন চর বিনানই ঘাট এলাকায় যমুনা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জিওব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্প এলাকায় হঠাৎ ধস শুরু হয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এছাড়া চরসলিমাবাদ গ্রামের কয়েকটি পয়েন্টে কয়েকদিন ধরে ভাঙন চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
চৌহালী উপজেলার হাজারো মানুষের কাছে এটি কোনো নতুন প্রশ্ন নয়। বছরের পর বছর, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা যমুনা নদীর ভয়াল ভাঙনের সঙ্গে এক অসম যুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, কবরস্থান ও জনপদ। সরকার বদলেছে, জনপ্রতিনিধি বদলেছে, উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি এসেছে; কিন্তু বদলায়নি চৌহালীর মানুষের ভাগ্য।স্থায়ী ও কার্যকর নদীশাসনের অভাবে উপজেলার বাঘুটিয়া ও খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান নাজির জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ২০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের তীব্রতায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ভাঙনের কারণে বিনানই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সম্ভুদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মনজুর কাদের মহাবিদ্যালয়, সম্ভুদিয়া আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসা, বাঘুটিয়া কারিগরি কলেজ, সম্ভুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৌবাড়িয়া সিকদারপাড়া কারিগরি কলেজ এবং পয়লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও পয়লা দাখিল মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি শতাধিক বসতবাড়ি, পাকা সড়ক ও কবরস্থানও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যমুনার ভাঙন রোধে বিভিন্ন সময়ে জিওব্যাগ ডাম্পিংসহ অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের অভাবে প্রতি বছরই নদীপাড়ের মানুষ বসতভিটা হারাচ্ছেন। তাদের দাবি, যমুনা নদীর পূর্ব তীরে স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ না থাকায় ভাঙন ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধে একটি স্থায়ী ও টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রোববার সকালে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান। এ সময় তিনি জরুরি ভিত্তিতে জিওটিউব ও জিওব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম তদারকি করেন।
তিনি বলেন, “কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করছি। এছাড়া স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে।”