পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ঘুষের টাকা ফেরত ও বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। সোমবার দুপুরে কলেজের গেট অবরুদ্ধ করে উপজেলার খানমরিচ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগরের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অধ্যক্ষ তাদের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি না দিয়ে নিজের আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছেন। তারা দ্রুত নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ অথবা নেওয়া টাকা ফেরতের দাবি জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর কলেজটিতে নৈশ্যপ্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে নৈশ্যপ্রহরী পদে পাঁচজন এবং আয়া পদে চারজন প্রার্থী আবেদন করেন। পরবর্তীতে গত শুক্রবার (১ মে) ছুটির দিনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আয়া পদের দুইজন প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
চাকরিপ্রার্থীদের আরও অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন উপজেলা পরিষদে উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে করা হয়। পরীক্ষা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা ভোজসভায় অংশ নেন, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, নিয়োগ পরীক্ষার আগেই খানমরিচ গ্রামের লিমন নামে এক প্রার্থীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা এবং হেলাল উদ্দিন নামে আরেক প্রার্থীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালে অফিস সহকারী পদে নুরুজ্জামানের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং ২০০২ সালে কম্পিউটার অপারেটর পদে তোফায়েল আহমেদের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার পরও চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণই পারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগর। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমি কারও কাছ থেকে ঘুষ নেইনি। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ৩ মে সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা আমাকে দুই দফা মারধর করেছে এবং আজও অবরুদ্ধ করে রাখে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, পরীক্ষার নিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলা পরিষদে নিয়োগ কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছে। ভোজসভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিজির প্রতিনিধি ও বাহিরের অতিথিদের আপ্যায়নের জন্যই খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।