কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা দক্ষিণ জানার ঘোনা এলাকায় সরকারি ড্রেন বা উপযুক্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান। দীর্ঘ দিন ধরে বাড়ির দৈনন্দিন ব্যবহার্য পানি নিষ্কাশন করতে না পেরে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে তাঁকে নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে স্বৈরাচারের দোসর সাজানোর অপচেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
গত সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুজ্জামান এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুজ্জামান জানান, ঝিলংজার জানারঘোনা এলাকায় তিনি বাড়ি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা ও বসবাস করে আসছেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও প্রধান সড়কে কোনো ড্রেন না থাকায় তাঁর বাড়ির দৈনন্দিন ব্যবহার্য পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই। মাঝে মাঝে বিকল্প উপায়ে মোটর বসিয়ে পানি সেচ করে দূরে ফেলতে পারলেও সবসময় তা সম্ভব হয় না। এর ফলে প্রায়ই ব্যবহার্য পানি চলাচলের পথে উঠে যায়।
এলাকাবাসীর এই কষ্টের জন্য নিজের চরম দুঃখবোধ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি সচেতন নাগরিক হয়েও অন্যের কষ্টের কারণ হয়েছি—এজন্য আমি সবার কাছে বারবার ক্ষমা চাচ্ছি। আমি চাই সবাই আমাকে সহযোগিতা করুক। সবার সহযোগিতা পেলে আমি এই দুর্দশা থেকে মুক্ত হতে পারব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমি দু’জন প্রতিবেশীর কাছে জমির ভেতর দিয়ে পাইপ বসানোর সুযোগ চেয়েও পাইনি। উল্টো স্থানীয় রাজনীতিবিদ ইমাম খালেদ স্বপনসহ কিছু সমাজনেতা এবং প্রতিবেশীরা আমাকে সহযোগিতা না করে উল্টো আমার বিরুদ্ধে মনগড়া ও হয়রানিমূলক সংবাদ পরিবেশন করাচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে আমাকে এসব মুখ বুঝে সহ্য করতে হচ্ছে। এমনকি আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কিছু দুষ্কৃতিকারী ব্যক্তি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও নাটক সাজিয়ে আমাকে রাজনৈতিক কোনো এক পক্ষের সাথে জড়িয়ে স্বৈরাচারের দোসর বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অথচ আমি কখনো কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম না এবং এখনো নেই। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক একটি সমস্যাকে রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে আমাকে অহেতুক হয়রানি করার চেষ্টা চলছে। নলখাগড়ার মতো আমার আর কোনো উপায় না পেয়ে আমাকে ভিটাবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।”\
নুরুজ্জামান আরও জানান, এই সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য খালেদা আকতারের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তখন ইউপি সদস্য তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকারি প্রকল্প গ্রহণ করে সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্প পাসও হয়েছে এবং অর্থ বরাদ্দ পেলে শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা ও অনিবন্ধিত কিছু অনলাইন ফেসবুক পেজে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তিনি এই ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।