শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
রুহিয়ায় ভুল কীটনাশক প্রয়োগে ৭ বিঘা জমির ধান নষ্টের পথে, দিশেহারা কৃষক ভজেন্দ্রপুর মাদরাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে বালককে বলাৎকারের অভিযোগ, পুলিশের কাছে সোপর্দ দৌলতপুরে  অবৈধ ড্রেজার বিরোধী অভিযান: ১ লাখ টাকা জরিমানা, পাইপ বিচ্ছিন্ন রুহিয়ায় ৯০ বোতল উইনসেরেক্স সিরাপসহ ২ জন গ্রেপ্তার অভয়নগরে ১৪৪ ধারা জারির পরও বিরোধীয় জমি দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষের শঙ্কা মা-বোনকে গালিগালাজের প্রতিবাদে মারপিট, অভিযোগ করায় দোকান ভাঙচুর  রামগড়ে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুন, বসতঘর পুড়ে ছাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে রাখতে মায়েদের ভূমিকা অপরিসীম-নারী সমাবেশে ইউএনও তাহমিদুল ইসলাম

রুহিয়ায় ভুল কীটনাশক প্রয়োগে ৭ বিঘা জমির ধান নষ্টের পথে, দিশেহারা কৃষক

দুলাল হক, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় দোকানদারের পরামর্শে ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করায় এক কৃষকের ৭ বিঘা জমির ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই কৃষকের ৭ বিঘা জমির ধান লাল-ধূসর বর্ণ ধারণ করে পচে যাচ্ছে।
জানা গেছে, রুহিয়া উপজেলার ১নং রুহিয়া ইউনিয়নের মধুপুর কাকলী স্কুল সংলগ্ন এলাকার আনোয়ার মুন্সীর ছেলে তৈয়ব আলী মধুপুর ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় ৭ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ধান চাষ করেছেন। তার পাশের জমির ধানে বিভিন্ন রোগ দেখা দেওয়ায় তিনি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে রুহিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার খোঁজ করেন। কর্মকর্তার দেখা না পেয়ে পরামর্শ নিতে যান কালীতলা হবিবর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হবিবরের কাছে।
এ সময় হবিবর মিমপ্লেক্স এগ্রো কোম্পানি লিঃ-এর একজন কর্মীকে ওই ক্ষেত পরিদর্শনে পাঠান। এরপর হবিবর ওই কোম্পানির কর্মীর পরামর্শে সেতারা, এমিস্কোর, কোটান ও ভ্যালেন্ট টেক লিঃ-এর লুপিন প্লাস কীটনাশক কৃষকের হাতে তুলে দেন।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ওই কৃষক উক্ত কীটনাশক তার ৭ বিঘা ধান ক্ষেতে স্প্রে করেন। তার পরদিন থেকেই তিনি তার ক্ষেতের নেতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পান।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তৈয়ব আলী অভিযোগ করে বলেন, কৃষি কর্মকর্তাকে কাছে না পেয়ে দোকানদার ও কোম্পানির কর্মীর পরামর্শে আমার ৭ বিঘা জমির ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম। আমি অনেক কষ্ট করে রুহিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবুর নিকট থেকে উক্ত ৭ বিঘা জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেছি। বর্তমানে আমি সর্বস্বহারা হয়ে পড়েছি।
এ ব্যাপারে হবিবর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হবিবর বলেন, “এই ওষুধ তৈয়ব আলী ছাড়াও আমি আরও অনেককে দিয়েছি। অন্য কারও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তৈয়ব আলীর ক্ষেত্রে যেহেতু অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেহেতু একজন কৃষিবিদের পরামর্শে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।”
রুহিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অ:দা:) নাসিরুল আলম বলেন, আমি আগামীকালই ওই ক্ষেত পরিদর্শনে যাব। পরিদর্শনপূর্বক যাবতীয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেন তিনি।
এ অবস্থায় ওই এলাকার কৃষক শাহা আলম, এনামুল হক (খাটাস) সহ আরও অনেকে বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কৃষকদের চাষাবাদ বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক, সভা-সেমিনার এবং পরামর্শমূলক সেবা নিয়মিত দেওয়া হলে তাঁদের আর দোকানদার বা কোম্পানির কর্মীদের ওপর নির্ভর করতে হতো না। এতে কৃষকেরা সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ পেতেন এবং এ ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতো।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর