১৪ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ; বুধবার দখলচেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, রায় পাওয়ার দাবি বিবাদীপক্ষের, দেখাতে পারেনি রায়ের কপি
যশোরের অভয়নগরে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান থাকা এবং বিরোধীয় জমি নিয়ে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা থাকার মধ্যেই জমি দখলের চেষ্টা ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৫ নম্বর শ্রীধরপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মথুরাপুর মৌজার ৯৪ নম্বর খতিয়ানের ১২২০ নম্বর দাগের ১৪ শতাংশ জমি নিয়ে মথুরাপুর গ্রামের শাহামুল হোসেন ও রমজান আলীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে শাহামুল হোসেন বাদী হয়ে রমজান আলীসহ ছয়জনকে বিবাদী করে অভয়নগর সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর দেওয়ানি ১৩০/২৫। মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় বিবাদীপক্ষ ওই জমি দখলের চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগ করেন বাদীপক্ষ।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় শাহামুল হোসেন বিরোধীয় জমি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করেন। মামলার নম্বর পি. ৭১৪/২৬। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আইন অনুযায়ী, ১৪৪ ধারা এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা যেতে পারে, যেখানে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কাজ বন্ধ করা বা প্রতিরোধ করা প্রয়োজন এবং জনশান্তি, নিরাপত্তা কিংবা দাঙ্গা-সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে। আর ১৪৫ ধারা মূলত জমি বা পানির দখলসংক্রান্ত বিরোধ থেকে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপের বিধান দেয়। বাদীপক্ষের অভিযোগ, গত বুধবার বিকেলে রমজান আলীসহ বিবাদীপক্ষের কয়েকজন একত্র হয়ে বিরোধীয় জমিতে গিয়ে দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শাহামুল হোসেন ও তাঁর পরিবারের নারী সদস্যরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।
তবে রমজান আলী আহত হয়েছেন, এমন কোনো অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা হলে তাঁরা জানান, তাঁকে কেউ মারধর করেছেন বলে তাঁরা দেখেননি। বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিরোধীয় জমি নিয়ে বিবাদীপক্ষ আদালত থেকে রায় পেয়েছে বলে দাবি করেছে। এ বিষয়ে রমজান আলীর স্ত্রীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে তাঁরা জমিটি পেয়েছেন এবং সে কারণে জমির দখল ফিরে পেতে চান। তবে এ দাবির সমর্থনে রায়ের কপি দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। তাঁর পক্ষ থেকে ১০৭ ধারার একটি মুচলেকার কপি এবং ১০৭ ধারার মামলার কপি দেখানো হয়। ফলে এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত বিবাদীপক্ষের আদালতের রায় পাওয়ার দাবির পক্ষে রায়ের কপি বা অন্য কোনো নথি পাওয়া যায়নি। তবে জমিটির মালিকানা বা চূড়ান্ত অধিকার কার, সে বিষয়ে আদালতের নথি ও চলমান মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারক।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা মূলত শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে শান্তি বজায় রাখার জন্য বন্ড নেওয়ার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। অভয়নগর থানার পাথালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আশরাফুল আলম বলেন, বুধবার যখন ঝামেলা হয়েছিল, আমরা গিয়েছিলাম। আমাদের সিনিয়র অফিসার এবং সার্কেল স্যারও এসেছিলেন। স্যার উভয় পক্ষকে বলে গেছেন, সোমবার যশোর এসপি অফিসে হাজির হতে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে বসে মীমাংসা করে দেওয়া হবে। তিনি জানান, বর্তমানে বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিরোধীয় জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় যদি কোনো পক্ষ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে। তাই আদালতের আদেশ ও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পাশাপাশি বিরোধীয় জমিতে নতুন করে কোনো ধরনের দখলচেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।