রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

অভয়নগরে ফের অবৈধ ষাঁড়ের লড়াই: প্রশাসনের অজান্তে জমজমাট আয়োজন

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর):
আপডেট সময়: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ন

নাউলী স্কুল মাঠে মেলার আড়ালে নিষ্ঠুর পশু নির্যাতন, অনুমতি ছাড়াই আয়োজন, জড়িত স্থানীয় প্রভাবশালীদের নাম; তদন্তে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনওর। যশোরের অভয়নগরে আবারও প্রাণঘাতী অবৈধ ষাঁড়ের লড়াইয়ের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার উপজেলার নাউলী স্কুল মাঠে কথিত “মেলা”র আড়ালে এই লড়াই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে গঠিত একটি আয়োজন কমিটির মাধ্যমে এই নিষিদ্ধ প্রতিযোগিতা শুরু হলেও এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নাউলী স্কুল মাঠে মেলার আদলে বড় পরিসরে লোকসমাগম ঘটিয়ে ষাঁড়ের লড়াই আয়োজন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই মেলার আড়ালে স্থানীয় কিছু অসাধু চক্র ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এমন আয়োজন করছে। সাধারণ মানুষের বিনোদনের নামে পশুদের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঠেলে দিয়ে তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে, যা স্পষ্টতই নিষ্ঠুর ও বেআইনি। এ বিষয়ে আয়োজক কমিটির অন্যতম ব্যক্তি এবং সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য উজ্জ্বল মুঠোফোনে জানান, “আমরা কোনো প্রশাসনিক অনুমতি নেইনি। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই আয়োজন করা হয়েছে। আপনি বিকালে এসে দেখা করেন, চা খেয়ে যাবেন।”

অন্যদিকে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালাউদ্দীন দিপু বলেন, “ষাঁড়ের লড়াইয়ের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। যারা এই ধরনের অবৈধ আয়োজন করছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী কোনো প্রাণীকে ইচ্ছাকৃতভাবে লড়াইয়ে উসকে দেওয়া, আঘাত করা বা প্রাণনাশের ঝুঁকিতে ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া জনসমাগম ঘটিয়ে কোনো মেলা বা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া এ ধরনের আয়োজন জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর জন্যও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এমন নিষ্ঠুর আয়োজন শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি সমাজে সহিংসতা ও অমানবিকতার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেয়। দ্রুত এই অবৈধ ষাঁড়ের লড়াই বন্ধ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর