সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
অভয়নগরে খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের তথ্য ভান্ডার সামাল দিচ্ছেন নিরাপত্তা প্রহরী হুসাইন গোপালপুরে বিনামূল্যে ৪ টি হতদরিদ্রের পরিবারের মাঝে বকনা গরু বিতরণ সলঙ্গায় দুর্গোৎসব দর্শনার্থীদের ভীড় সৌদিতে না নেওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বাসাইলে গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ গোপালপুরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য আবদুস সালাম পিন্টু আটঘরিয়ায় ১৭ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ রুহিয়ায় সনাতন ধর্মের ভক্তদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ রাণীনগরে প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন, বরখাস্তের পর পুনরায় যোগদান

রাণীনগরে প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন, বরখাস্তের পর পুনরায় যোগদান

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ন

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম কফিলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাহার হোসেনের নিয়োগ, এমপিওভুক্তি, পদোন্নতি ও চাকরির বৈধতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কৃষি ডিপ্লোমা অর্জনের আগেই এমপিওভুক্ত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের আগেই উচ্চতর পদে পদোন্নতি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে একাধিকবার তদন্ত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অভিযোগসংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০০ সালের ২ আগস্ট মোজাহার হোসেনের কৃষি ডিপ্লোমা পাসের সাময়িক সনদ ইস্যু করা হয়। অথচ নথি অনুযায়ী, এর চার মাস আগেই ২০০০ সালের ১ এপ্রিল থেকে তিনি এমপিওভুক্ত হন। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি কৃষি শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের আগেই স্থায়ী নিয়োগ ও পরবর্তী সময়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকের পদে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
১৯৯৬ সালের ১৪ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইরশাদুল হক স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্রে কৃষি ডিপ্লোমা কোর্সের চতুর্থ সেমিস্টারে অধ্যয়নরতদের নির্দিষ্ট শর্তে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা দাখিল মাদ্রাসায় কৃষি শিক্ষকের শূন্যপদে সাময়িকভাবে শিক্ষকতার সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, চূড়ান্ত ডিপ্লোমা অর্জনের পর বিধি মোতাবেক নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি বিবেচিত হওয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে মোজাহার হোসেনের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বা পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি, অনুমোদনপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের তদন্ত প্রতিবেদনেও বিভিন্ন অসংগতি উঠে আসার কথা বলা হয়েছে। একই বছরের ২১ আগস্ট তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ২০২৬ সালের ২১ মে তাঁকে পুনরায় যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত, পুনর্বহালের আদেশ এবং তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র প্রয়োজন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাহার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। নিয়ম মেনেই চাকরি করছি।” তিনি তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন সাংবাদিকদের দেওয়ার কথা বললেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পরও সেগুলো সরবরাহ করেননি।
নিয়োগ ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “শিক্ষক মোজাহার হোসেনের আগের নিয়োগ ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে তিনি মুক্তি পেলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির একটি সভায় তাঁকে স্বপদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) অবহিত করা হলে, মাউশির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।”


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর